চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ভাতার কার্ডের প্রলোভনে অসহায়দের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ভাতার কার্ডের প্রলোভনে অসহায়দের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ভাতার কার্ডের প্রলোভনে অসহায়দের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে..
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ভাতার কার্ডের প্রলোভনে অসহায়দের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য কুলছুমা বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার..

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য কুলছুমা বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এই জনপ্রতিনিধি বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাতার কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও, ইউপি সদস্য কুলছুমা বেগম তার ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে এনআইডি কার্ড, ছবি এবং নগদ অ্যাকাউন্টের তথ্যের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের এই অর্থ দাবি করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কার্ড না পাওয়ায় এবং টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী মনির হোসেন প্রধানসহ একাধিক এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুলছুমা বেগম অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এলাকার হতদরিদ্র মানুষকে টার্গেট করে এই প্রতারণার জাল বিস্তার করেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, কার্ডের আশায় তারা ধারদেনা করে বা শেষ সম্বল বিক্রি করে মেম্বারের হাতে টাকা তুলে দিয়েছেন, কিন্তু বিনিময়ে তারা কেবল আশ্বাসই পেয়েছেন। বিশেষ করে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের সঙ্গে প্রতিবেদক যখন ভুক্তভোগী সেজে কথা বলেন, তখন তিনি সরাসরি ৫ হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সকাল ৬টার মধ্যে তার বাড়িতে পাঠানোর নির্দেশনা দেন। এই কথোপকথন প্রমাণ করে যে, তিনি প্রকাশ্যে এবং অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের বিপরীতে অবৈধ বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা এখন নিজেদের টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, অথচ অভিযুক্ত মেম্বার নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন এবং ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন।

ঘটনার বিষয়ে নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং অভিযুক্ত মেম্বারকে ইতিপূর্বে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ওই সদস্যের দৌরাত্ম্য কমছে না। এদিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্রধর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারি ভাতার কার্ডের জন্য কোনো প্রকার অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এমন দায়সারা ও সতর্কতামূলক বক্তব্য ভুক্তভোগীদের মাঝে কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও, দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকা এই ভাতার কার্ডগুলো দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন, কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের এমন নৈতিক স্খলন পুরো ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল তদন্তের আশ্বাস নয়, বরং ঘটনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করাই এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের চক্রের কাছে জিম্মি হয়েই থাকবে। দুর্নীতিবিরোধী এই তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে যে, অসহায় মানুষের অধিকার রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন কতটা আপসহীন ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

نظری یافت نشد


News Card Generator