রাজধানীতে আস্তানা গেড়ে নাশকতার ছক: গ্রেপ্তার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার তিন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাজধানীতে আস্তানা গেড়ে নাশকতার ছক: গ্রেপ্তার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার তিন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাজধানীতে আস্তানা গেড়ে নাশকতার ছক: গ্রেপ্তার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার তিন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা..
রাজধানীতে আস্তানা গেড়ে নাশকতার ছক: গ্রেপ্তার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার তিন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা..
ছবি: সংগৃহীত
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ স্থানীয় নেতাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ, যারা গোপন ফ্ল্যাটে অবস্থান করে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।..

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের তিন প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গত ১৯ অক্টোবর সোমবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ, একই উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান এবং আটঘরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম। ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জুয়েল রানা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা পাবনা অঞ্চলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও আত্মগোপনে থেকে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন এবং গোপনে দলীয় কার্যক্রম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মোহাম্মদপুরের ওই ফ্ল্যাটটিকে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। পুলিশি অভিযানে তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারকৃত এই তিন নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের গুরুত্বকে স্পষ্ট করে। স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার দাপট দেখানো এই নেতারা আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও যেভাবে রাজধানীর ভেতরে অবস্থান করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার নীল-নকশা তৈরি করছিলেন, তা জনমনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পর এই নেতারা কেবল আত্মগোপনেই যাননি, বরং দেশের চলমান স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করতে স্থানীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রাজধানী থেকে কলকাঠি নাড়ছিলেন। তাদের এই অবস্থান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অপরিচিত ফ্ল্যাটে বহিরাগতদের এমন সন্দেহজনক আনাগোনা এবং দীর্ঘ সময় অবস্থানের বিষয়টি এলাকাটিতে এক ধরনের ভীতি ও অস্বস্তির জন্ম দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত পুলিশি অভিযানে পরিসমাপ্তি ঘটল।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তাদের সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে তা উদঘাটনের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ যদি রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে বা নাশকতার পরিকল্পনা করে, তবে তাদের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাবনা থেকে এসে ঢাকায় আস্তানা গেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি নির্দেশ করে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একটি বড় অংশ এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে সক্রিয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, শুধু মোহাম্মদপুর নয়, রাজধানীর অন্যান্য প্রান্তেও এমন আরও গোপন আস্তানা থাকতে পারে যা অবিলম্বে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবহন ও জননিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির এই অপচেষ্টা কেবল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকেও ব্যাহত করছে। রাজধানীর মতো জনবহুল এলাকায় বসে নাশকতার ছক কষা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করার ঘটনা জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। এই তিন নেতার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি নির্দেশ করে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তবে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে, সেজন্য প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ফ্ল্যাট ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই ও নজরদারি প্রয়োজন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্রগুলো জনজীবনকে বারবার জিম্মি করার সাহস পাবে।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator