8
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আখচাষিদের মধ্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচি ও জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। দেশের কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে হাজারও মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই—পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা অর্থ সরবরাহ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা মিথ্যা কথা বলে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল—এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ
বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। সেই সব শহীদদের স্মরণে আমরা ঢাকায় স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। বিএনপি একাত্তরকে ধারণ করে, বিএনপি চব্বিশকে ধারণ করে। চব্বিশকে ধারণ করে বলেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে।”
শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যারা একাত্তরে ধোঁকা দিয়েছিল, তারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও ধোঁকা দিয়েছে।”
তারেক রহমান জানান, জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, যারা প্রকাশ্যে জুলাই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়, তাদের কয়েকটি দলের কোনো প্রতিনিধি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
তিনি বলেন, “অর্থাৎ একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি বলছে, আর তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজ ও প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।”
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খননের প্রসঙ্গ
জনসভায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “নির্বাচনের আগে তারা যেন কী টিকিট বিক্রি করেছিল। সেই টিকিট জনগণ খায় না। তখন বলেছিল—রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাদের তো কিছু যায় আসে না। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড চালু করব কি না।”
তিনি আরও বলেন, “উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, আগামী পাঁচ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার এবং দেশকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে—এমন রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান।