চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশের অবাধ বাণিজ্য: অভিযানে ঘাটতি ও যোগসাজশের অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশের অবাধ বাণিজ্য: অভিযানে ঘাটতি ও যোগসাজশের অভিযোগ..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশের অবাধ বাণিজ্য: অভিযানে ঘাটতি ও যোগসাজশের অভিযোগ..
চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশের অবাধ বাণিজ্য: অভিযানে ঘাটতি ও যোগসাজশের অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুর সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বিক্রির হিড়িক পড়েছে, যা মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের চলমান অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুল..

মা ইলিশের প্রজনন মৌসুম নির্বিঘ্ন করতে সরকার কর্তৃক ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইন অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্য বাণিজ্য। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী নদীতে যেকোনো ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও লালপুর নদীর পাড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ট্রলারে করে ইলিশ মাছ এনে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলের দাবি থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে যখন মৎস্য অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ডের কড়া নজরদারিতে থাকার কথা, ঠিক তখনই নদী তীরবর্তী পয়েন্টগুলোতে কেনাবেচার এই উৎসব প্রজনন মৌসুমের মূল উদ্দেশ্যকেই চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রশাসনের লোকজনের চোখের সামনেই ট্রলার থেকে মাছ নামানো হচ্ছে এবং তা পাইকারদের মাধ্যমে ভ্যানগাড়িতে করে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারি নির্দেশনার প্রতি এক ধরনের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।

ভুক্তভোগী সচেতন মহলের অভিযোগ, এই অবৈধ ব্যবসার পেছনে স্থানীয় অসাধু সিন্ডিকেট ও কিছু অসাধু জেলেদের সাথে সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মাছ ধরার পর তা বাজারে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটি সুসংগঠিত। নদী থেকে মাছ নামানোর পর পাইকাররা তা দ্রুত নিরাপদ গন্তব্যে সরিয়ে নিচ্ছে, অথচ এই রুটগুলোতে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি থাকার কথা। ভুক্তভোগীদের মতে, অভিযানে কেবল ছোটখাটো জেলেরাই ধরা পড়ছে, কিন্তু মূল হোতা ও বড় মাপের ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাছের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকায় গ্রামাঞ্চলেও এখন অহরহ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা কতটা দুর্বল। স্থানীয়দের সরাসরি অভিযোগ, অভিযানের নামে অনেক সময় লোক দেখানো কার্যক্রম চললেও মাঠ পর্যায়ে অসাধু চক্রটির নেটওয়ার্ক আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে, যার ফলে ইলিশের বংশবিস্তারে বড় ধরনের বাধা তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানের কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন এবং নিয়মিত জাল জব্দসহ জেলেদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা অভিযানে ইলিশ নিধন বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানের স্বচ্ছতা ও তথ্যের ঘাটতি থাকায় সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, শুধু নদীতে টহল দিলেই হবে না, বরং মাছের বিপণন কেন্দ্র ও পরিবহন রুটে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি মাঠ পর্যায়ের অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না করে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই অভিযান কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব এবং নিয়মিত নজরদারির ঘাটতিই মা ইলিশ নিধনের এই মহোৎসবকে আরও প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মা ইলিশ রক্ষায় ব্যর্থতা কেবল একটি মৌসুমের মাছ হারানোর বিষয় নয়, বরং এটি জাতীয় মৎস্য সম্পদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের ইঙ্গিত দেয়। যদি এই অনিয়ম ও যোগসাজশ এখনই বন্ধ না করা হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে, যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রায়। স্থানীয়রা এখন কেবল অভিযানের সংখ্যার দিকে তাকিয়ে নেই, বরং তারা চায় অভিযানের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক। নদীপথ ও মাছ বিক্রির পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি এবং অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই কেবল মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মৎস্য অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, অন্যথায় প্রজনন মৌসুমের এই নিষেধাজ্ঞা কেবল নামেমাত্রই থেকে যাবে।

Комментариев нет


News Card Generator