পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে বেপরোয়া পকেটমার ও ছিনতাইচক্র: নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ যাত্রীরা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে বেপরোয়া পকেটমার ও ছিনতাইচক্র: নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ যাত্রীরা..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে বেপরোয়া পকেটমার ও ছিনতাইচক্র: নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ যাত্রীরা..
পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে বেপরোয়া পকেটমার ও ছিনতাইচক্র: নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ যাত্রীরা..
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনে ওঠানামার সময় যাত্রীদের মূল্যবান সামগ্রী চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ভুক্তভোগীদের ফোন হাতিয়ে নিয়ে উল্টো মুক্তিপণ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে স্..

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনে ওঠানামার ভিড়কে পুঁজি করে পকেটমার ও সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। উত্তর জনপদের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটি দিয়ে প্রতিদিন ঠাকুরগাঁও সদর, হরিপুর ও রাণীশংকৈলসহ আশপাশের তিনটি উপজেলার হাজারো মানুষ দিনাজপুর কিংবা বিভাগীয় শহরে নিয়মিত যাতায়াত করেন। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে বের হওয়া রোগী, চাকরিপ্রার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সাশ্রয়ী যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে এই রেলপথ বেছে নেন। তবে প্ল্যাটফর্মে দিনাজপুর অভিমুখী কিংবা দূরপাল্লার ট্রেন ভেড়ার মুহূর্তে একদল উঠতি বয়সী তরুণের বেপরোয়া আচরণ এবং ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের বিষয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টেশন প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের স্বাভাবিক ভিড়কে ব্যবহার করে এই চক্রটি মুহূর্তের মধ্যেই যাত্রীদের পকেট ও ব্যাগ খালি করে সটকে পড়ছে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই রেল যোগাযোগ কেন্দ্রে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও যাত্রী অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিশেষত ট্রেন থামার পর কামরায় প্রবেশের মুহূর্তে প্ল্যাটফর্মে যে তীব্র হুড়োহুড়ি তৈরি হয়, সেই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেয় সক্রিয় অপরাধী চক্রটি। সম্প্রতি প্ল্যাটফর্ম থেকে এক শিক্ষার্থীর মূল্যবান স্মার্টফোন চুরির পর সেই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে অপরাধী চক্রটি উল্টো ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করে সরাসরি অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়, যা স্টেশন এলাকায় সক্রিয় অপরাধীদের অপতৎপরতা কতটা বেপরোয়া রূপ নিয়েছে তা প্রমাণ করে। ভুক্তভোগী সাধারণ নারী, জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও স্বল্প আয়ের যাত্রীরা বলছেন, প্ল্যাটফর্মের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী সমাগম এবং ট্রেনের বগিতে প্রবেশের মুখে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় তারা সহজে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। দূরপাল্লার ট্রেনগুলোতে যখন হুড়মুড় করে যাত্রীদের ওঠানামা চলে, তখন প্ল্যাটফর্ম এলাকায় কোনো ধরনের কার্যকর তদারকি দেখা যায় না। যাত্রীরা জানান, স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের জন্য টিকিট কেটে ট্রেনে ওঠার স্বাভাবিক পরিবেশ এখন এক প্রকার আতঙ্কে রূপ নিয়েছে, কারণ ভিড়ের ভেতর কে কখন অপরাধ ঘটাচ্ছে তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

স্টেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত সতর্কতা বজায় রাখার দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত ভ্রমণকারীদের। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) কিংবা রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) দৃশ্যমান টহল ও কার্যকর নজরদারির অভাবেই অপরাধীরা প্ল্যাটফর্মে অবাধে বিচরণ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে যাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছে। সচেতন নাগরিক ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা জোর দাবি জানিয়েছেন যে, স্টেশনের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা বাড়ানো, সন্দেহভাজনদের গতিবিধির ওপর রেলওয়ে পুলিশের তল্লাশি জোরদার করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য প্ল্যাটফর্মে দৃশ্যমান হেল্পডেস্ক বা তাৎক্ষণিক সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। যাত্রীদের স্পষ্ট অভিমত, মাইকে কেবল মৌখিক সতর্কতা জারি করে দায় সারলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় চক্রটিকে চিহ্নিত করে রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে পরিচিত রেলভ্রমণে যদি যাত্রীদের নিরাপত্তা এভাবে বিঘ্নিত হয়, তবে তা সমগ্র উত্তরাঞ্চলের এই রুটে রেল পরিবহনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করবে। পীরগঞ্জ স্টেশন হয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রান্তিক রোগী থেকে শুরু করে নিত্যদিনের চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে অবিলম্বে স্টেশনের সার্বিক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখতে প্ল্যাটফর্মে যাত্রী প্রবেশ থেকে শুরু করে ট্রেনে ওঠা পর্যন্ত নিরাপত্তা বলয় কঠোর না করা হলে অচিরেই এই জনগুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি অপরাধীদের স্থায়ী অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে, যার চূড়ান্ত দায় সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator