কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ জনকে হারালেন নুর আলম.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ জনকে হারালেন নুর আলম..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ জনকে হারালেন নুর আলম..
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ জনকে হারালেন নুর আলম..
ছবি: সংগৃহীত
****

 কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত নুর আলম। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দময় সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই ভ্রমণই তাঁর জীবনে নেমে এনেছে অপূরণীয় শোক।

নুর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ফারিহা কবির ও সাত বছরের ছেলে ফায়িজান আহম্মেদকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গা এলাকায় মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত নুর আলম।

অফিসের কাজে ফিরে আসেন চুয়াডাঙ্গায়

নুর আলম জানান, গত বুধবার স্ত্রী ফারিহা কবির, ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি। তবে অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাঁদের কক্সবাজার থেকে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সকালে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্ত্রী, সন্তান ও চার আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পান তিনি। খবর পেয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন নুর আলম।

শোকাহত নুর আলম বলেন, “আজ তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে আগুন লাগল, জানি না। আমার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।”

আট বছরের সংসারে এখন নীরবতা

নুর আলমের একমাত্র ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় তলার কক্ষটি তালাবদ্ধ। যে বাসায় স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আট বছর ধরে সংসার করছিলেন তিনি, তাঁদের অনুপস্থিতিতে সেখানে নেমে এসেছে নীরবতা।

বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ বলেন, নুর আলম প্রায় আট বছর ধরে তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন। তাঁরা খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পর নুর আলম ঢাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন।

পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির জানান, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের মা ও ছেলে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা। বাকি চারজন তাঁদের আত্মীয়স্বজন হতে পারেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী বিস্তারিত জানা যাবে।

সূত্র: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পুলিশ। 

Inga kommentarer hittades


News Card Generator