কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল কর্মী হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল কর্মী হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল কর্মী হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার..
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল কর্মী হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার..
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবদল কর্মী আবু কাউসারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ, ঘটনার জেরে উত্তপ্ত এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।..

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আবু কাউসার (৪৩) নামক এক যুবদল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আবু কাউসার কুমিল্লা নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জমি সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে আলোচনার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় কাউসারকে বহনকারী অটোরিকশাচালক মাসুমও গুরুতর আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় কাউসারকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন, কিন্তু ঢাকা নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর শুক্রবার গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদকে গ্রেপ্তার করে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে যেখানে জমি দখল ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নিহত আবু কাউসারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রত্যক্ষদর্শী শামীম হোসেনের অভিযোগ, ছত্রখিল এলাকার একটি জমি ক্রয় করা নিয়ে তৌহিদ ও তার ভাই তানজিলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। শামীম জানান, জমিটি বৈধভাবে কেনা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তা দখলে বাধা দিয়ে আসছিল এবং বিষয়টি মীমাংসার নামে কৌশলে শুক্রবার সকালে তাদের ডেকে নেওয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিকেলে উত্তেজিত জনতা নন্দিরবাজার এলাকায় অভিযুক্ত তৌহিদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বাড়ির জানালার কাচসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তৌহিদ ও তার সহযোগীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা এই জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লা মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব অভিযোগ করেছেন যে, প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সে সক্রিয়ভাবে বিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল। তার দাবি, বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৌহিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে সে কারাবরণও করেছিল। এদিকে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকলেও কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডিবি কর্তৃক প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, মূল হামলাকারী তৌহিদ ও তার ভাই তানজিলসহ জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ড কুমিল্লায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও জমি দখলের পুরনো ক্ষতকে পুনরায় উসকে দিয়েছে। একজন রাজনৈতিক কর্মীর এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও ক্ষোভ কতটা প্রবল। ভবিষ্যতে পরিবহন ও জননিরাপত্তার খাতিরে স্থানীয় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তৌহিদ ও তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এলাকায় অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জনজীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator