‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প..
‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প..
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনি সমাবেশে মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে আপত্তিকর ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন।..

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটন শহরে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র ও জনপ্রিয় নাম ‘মোহাম্মদ’ নিয়ে চরম আপত্তিকর ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচারণায় অংশ নিয়ে ইরান প্রসঙ্গ টেনে আনার সময় তিনি দাবি করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই ৬৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বছরের পর বছর ধরে তিনি এই কৌশল ব্যবহার করে আসছেন এবং কখনো ভুল হয়নি। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশ্বের অগণিত মুসলিম পরিবার তাদের সন্তানদের এই নামে নামকরণ করে থাকেন, যা বিশ্বব্যাপী একটি গভীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। ট্রাম্পের এই অসংবেদনশীল মন্তব্য মূলত সেই ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত হেনেছে এবং তার রাজনৈতিক ভাষণে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমাবেশে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে তার এই কৌতুক কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি, বরং অধিকাংশের মধ্যে এক ধরণের অস্বস্তি ও নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে। মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ট্রাম্পের এই আচরণের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মনোভাবের একটি ধারাবাহিক বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সোমালি বংশোদ্ভূত মুসলিম নাগরিক, ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের মতো ব্যক্তিদের নিয়ে অতীতে ট্রাম্পের নেতিবাচক মন্তব্যগুলো এই বিদ্বেষের গভীরতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে এই ধরনের বক্তব্য উগ্রপন্থাকে উসকে দেয় এবং অভিবাসী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

এই ঘটনার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে এবং ট্রাম্পের নিজস্ব বলয়ে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি, বরং নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল হিসেবে তিনি এই ধরনের মেরুকরণমূলক বক্তব্যকে বেছে নিয়েছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেছে যে, ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের নীতি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়া বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বা ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি পুরো মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর একটি আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমালোচকদের দাবি, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলার সময় ধর্মীয় পরিচয়কে টেনে এনে বিদ্রূপ করা কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা।

ট্রাম্পের এ ধরনের বেপরোয়া বক্তব্য ভবিষ্যতে মার্কিন রাজনীতিতে বিভাজনকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য জনসমাবেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে টার্গেট করার যে প্রবণতা ট্রাম্প দেখাচ্ছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সম্প্রীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই উসকানিমূলক কৌশল সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও অস্থিরতা তৈরি করছে। ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে এই ধরনের বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার নয়, বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বৈচিত্র্য ও সহনশীলতার সংস্কৃতির ওপর চরম আঘাত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

Комментариев нет


News Card Generator