বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করে এই পদক্ষেপ নেন। খবর রয়টার্সের।
যে সমস্ত কোম্পানির সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে:
পুতিনের জারি করা ডিক্রিতে যেসব ইউরোপীয় কোম্পানির নাম রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
টার্কেট (Tarkett): ফরাসি ফ্লোরিং নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
-
মেনশেন (Mensahen): জার্মান প্যাকেজিং নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
-
স্ভেরিগে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস (Sverige International Holdings): সুইডিশ প্যাকেজিং কোম্পানি।
-
অনটেক্স (Ontex): বেলজিয়ামের স্বাস্থ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
-
ইভিওসিস (Evisis): ইউরোপীয় মেটাল-প্যাকেজিং ব্যবসার রুশ সম্পদ (যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন গ্রুপ ‘সোনোকো’ কিনে নিয়েছিল এবং ডাচ ইউনিটের মালিকানাধীন হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল)।
ক্রেমলিনের বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট:
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই কঠোর পদক্ষেপটি ইইউভুক্ত দেশগুলোর ‘সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতার’ সরাসরি প্রতিক্রিয়া। তবে মস্কো জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি প্রয়োজনে ‘পরিবর্তনযোগ্য’ বা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে এবং ঠিক এমন এক সময়েই ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এই নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা এল। পাশাপাশি, ইউরোপে জব্দ করা রাশিয়ার নিজস্ব কিছু সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালাতে পারে—এমন গুঞ্জনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এল।
এর আগে যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ২৩৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রুশ রাষ্ট্রীয় সম্পদ জব্দ করে এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে রুশ কোম্পানিগুলোর সম্পদ টার্গেট করে। এরই পাল্টা জবাব হিসেবে গত মাসে ফুড জায়ান্ট ‘নেস্লে’ এবং খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওশান’ ও ‘মেট্রো’র বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল রাশিয়া।