দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: চালকের অসতর্কতায় ঝরল ৮ প্রাণ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: চালকের অসতর্কতায় ঝরল ৮ প্রাণ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: চালকের অসতর্কতায় ঝরল ৮ প্রাণ..
দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: চালকের অসতর্কতায় ঝরল ৮ প্রাণ..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজস্থানের কোটায় দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে মিনিবাস উল্টে ৮ জনের মৃত্যু ও ১৭ জন আহত হয়েছেন; প্রাথমিক তদন্তে চালকের ঘুমন্ত অবস্থাকেই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।..

ভারতের রাজস্থানের কোটা অঞ্চলের সিমলিয়া থানা এলাকায় দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে গত শনিবার সকালে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে রাজস্থানের ধর্মীয় তীর্থস্থান খাতু শ্যামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের রেলিং ভেঙে গভীর খাদে পড়ে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ৮ লেনের আধুনিক এবং উচ্চগতির এই এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় ১৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ এমবিএস হাসপাতাল ও নিউ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন যাদের পরিচয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আধুনিক অবকাঠামো সম্বলিত এক্সপ্রেসওয়েতে এ ধরনের বড় দুর্ঘটনা পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও চালকদের দায়িত্ববোধের ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া যাত্রী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বাসটি চলাচলের সময় চালক দীর্ঘক্ষণ একটানা গাড়ি চালানোর ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে তিনি ঝিমিয়ে পড়েন। এর ফলে বাসটি তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের নিরাপত্তা বেষ্টনী বা রেলিং ভেঙে কালভার্টের নিচে আছড়ে পড়ে। আহত যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় চালক পর্যাপ্ত বিরতি নেননি, যা এই ভয়াবহ পরিণতির প্রধান কারণ। ভুক্তভোগীদের দাবি, হাইওয়েতে যাতায়াতের সময় চালকদের শারীরিক সক্ষমতা ও ক্লান্তি দূরীকরণের বিষয়ে বাস মালিকদের কোনো তদারকি ছিল না। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় বাসটির কাঠামো দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের উদ্ধারে বেগ পেতে হয় স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশকে। আহতদের আর্তনাদে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল চত্বরে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

ঘটনার পরপরই কোটার জেলা সংগ্রাহক পীযূষ সামারিয়া এবং আইজি হরেন্দ্র মহাবরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাম কল্যাণ মীনা জানিয়েছেন, বাসে মোট ২৭ জন যাত্রী ছিলেন এবং পুলিশ ইতোমধ্যে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে চালকের অসতর্কতা এবং নিদ্রাচ্ছন্ন অবস্থাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করা হয়নি, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উচ্চগতির মহাসড়কে চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক বিশ্রাম এবং নিয়মিত বিরতির নিয়ম কার্যকর করার দাবি জোরালো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়।

এই দুর্ঘটনাটি ভারতের পরিবহন খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। ৮ লেনের হাইওয়ে হওয়ার পরেও চালকের ব্যক্তিগত অবহেলা এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এ ধরনের প্রাণহানি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে উচ্চগতিতে গাড়ি চালানোর সময় চালকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর যে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, তা এই ঘটনার পর আবারও প্রমাণিত হলো। ভবিষ্যতে পরিবহন খাতে বড় ধরনের সংস্কার এবং চালকদের জন্য কঠোর নিয়ম না আনা হলে সাধারণ যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি কমবে না, যা সামগ্রিকভাবে জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator