জামায়াত নেতা খালিদুজ্জামানকে ‘সুযোগসন্ধানী ভণ্ড’ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁনের কঠোর সমালোচনা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জামায়াত নেতা খালিদুজ্জামানকে ‘সুযোগসন্ধানী ভণ্ড’ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁনের কঠোর সমালোচনা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জামায়াত নেতা খালিদুজ্জামানকে ‘সুযোগসন্ধানী ভণ্ড’ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁনের কঠোর সমালোচনা..
জামায়াত নেতা খালিদুজ্জামানকে ‘সুযোগসন্ধানী ভণ্ড’ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁনের কঠোর সমালোচনা..
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ‘সুযোগসন্ধানী ভণ্ড’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রা..

গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্টের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের রাজনৈতিক সততা ও অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাশেদ খাঁনের অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে যখন দেশব্যাপী ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চলছিল, তখন খালিদুজ্জামান রাজপথে তো দূরে থাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রতিবাদী অবস্থান নেননি। রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, যে ব্যক্তি দীর্ঘ সময় নীরব থেকে ক্ষমতার পালাবদলের পর নিজেকে বিপ্লবী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন, তার এই অবস্থান রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং সুবিধাবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনাটি মূলত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ ও পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক অবস্থান নিয়ে জনমনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে খালিদুজ্জামানের বর্তমান পরিচয় ও তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বিবর্তন। তিনি দাবি করেছেন, ডা. খালিদুজ্জামান বর্তমানে নিজেকে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন, অথচ তার অতীত কর্মকাণ্ডে কোনো ত্যাগের নজির নেই। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট খালিদুজ্জামানের ফেসবুক পেজ খোলার তথ্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরই একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের নতুন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল নিয়েছে। ভুক্তভোগী বা যারা দীর্ঘ সময় রাজপথে লড়াই করেছেন, তাদের দৃষ্টিতে এমন ব্যক্তিদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন বা শীর্ষস্থানে জায়গা করে নেওয়াটা একটি বড় ধরনের নৈতিক বিচ্যুতি। রাশেদ খাঁনের ভাষায়, বিগত ১৬ বছর যারা আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছিলেন, এখন তারাই জামায়াত-শিবিরের লেবাস ধারণ করে রাজনীতিকে কলুষিত করার চেষ্টা করছেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

রাজনৈতিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে তীব্র অসহিষ্ণুতা। রাশেদ খাঁন সরাসরি ডা. খালিদুজ্জামানকে ‘বিকৃতমস্তিষ্কের মানুষ’ এবং ‘সুযোগসন্ধানী পাকি ভণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে তাকে দেশ থেকে বিতাড়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে কেবল দূষিতই করবে না, বরং প্রকৃত ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন ঘটাবে। যদিও রাশেদ খাঁনের এই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের বিপরীতে ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা পাল্টা জবাবের জন্য সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তার প্রতিক্রিয়া পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি, যা রাজনৈতিক এই দ্বন্দ্বকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

এই ঘটনার সামগ্রিক প্রভাব বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ইমেজ সংকটের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নতুন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া ব্যক্তিদের অতীত ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তা আরও ঘনীভূত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন আক্রমণাত্মক বাগাড়ম্বর ও কাদা ছোড়াছুড়ি কেবল ব্যক্তিগত রেষারেষি নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার লক্ষণ। যদি এই ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনো সুরাহা না হয় বা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থাহীনতা আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator