মহাষষ্ঠীর বোধনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা: অশুভ বিনাশ ও মানবিক ঐক্যের বার্তা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মহাষষ্ঠীর বোধনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা: অশুভ বিনাশ ও মানবিক ঐক্যের বার্তা..

সঞ্জয় মালাকার avatar   
সঞ্জয় মালাকার
মহাষষ্ঠীর বোধনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা: অশুভ বিনাশ ও মানবিক ঐক্যের বার্তা..
মহাষষ্ঠীর বোধনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা: অশুভ বিনাশ ও মানবিক ঐক্যের বার্তা..
ছবি: সংগৃহীত
মহাষষ্ঠীর বোধন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তির জাগরণের আহ্বানে মুখর সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলো।..

আজ মহাষষ্ঠীতে শাস্ত্রীয় রীতি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি এবং ভক্তদের উলুধ্বনিতে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ এক আধ্যাত্মিক আবহে পরিণত হয়েছে। বোধন শব্দের আক্ষরিক অর্থ জাগরণ, যা মূলত দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে পূজা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানোর প্রক্রিয়া। বেলগাছের শাখায় দেবীর অধিষ্ঠান ঘটিয়ে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এই উৎসবের সূচনা হয়, যা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানুষের অন্তরে সুপ্ত সাহস, শুভবুদ্ধি ও মানবিক চেতনার পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। রামায়ণের আখ্যান অনুযায়ী, শরৎকালে শ্রীরামচন্দ্র দেবী দুর্গার যে অকালবোধন করেছিলেন, সেই ঐতিহ্য মেনেই আজও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়গান গেয়ে উৎসবের শুভ সূচনা করা হলো।

উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেবীমাহাত্ম্য বা দুর্গাসপ্তশতী বর্ণিত মহিষাসুর বধের কাহিনি, যা যুগে যুগে অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা জুগিয়ে আসছে। ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের মতে, বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই উৎসব কেবল ধর্মীয় উপাসনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার এক বিশাল মিলনমেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের ভিড় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের নিরলস প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ভক্তই মনে করেন, দেবীর দশভুজা রূপটি আমাদের বিপদে ধৈর্য ধরার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেয়, যা বর্তমান সময়ে নারীর মর্যাদা রক্ষা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

পূজা উদযাপন কমিটির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাস মালিক সমিতি ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে মণ্ডপগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করার আশ্বাস দিয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে মণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ ও পুরোহিতরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এবারও প্রতিটি পূজামণ্ডপে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছাড়াই উৎসব সম্পন্ন হবে। কর্তৃপক্ষের মতে, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণই এই উৎসবকে সার্থক ও প্রাণবন্ত করে তোলে, তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

শারদীয় দুর্গোৎসবের এই মাহেন্দ্রক্ষণ ভবিষ্যতে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর এক নতুন বার্তা নিয়ে আসুক, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। মহাষষ্ঠীর এই বোধন যেন কেবল প্রতিমার আরাধনা নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে বিদ্বেষ ও হিংসা দূর করে শান্তি ও সহমর্মিতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। উৎসবের এই দিনগুলোতে মানুষে মানুষে বিভেদ ঘুচিয়ে ঐক্য ও মানবিকতার যে বন্ধন তৈরি হয়, তা দীর্ঘস্থায়ী হোক। দুর্গোৎসবের এই আনন্দধারা সমাজ থেকে অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে একটি সমৃদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।

No se encontraron comentarios


News Card Generator