ঘরে ঘরে হঠাৎ জ্বরের প্রকোপ: সাধারণ ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু? জেনে নিন চেনার উপায় ও করণীয়.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঘরে ঘরে হঠাৎ জ্বরের প্রকোপ: সাধারণ ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু? জেনে নিন চেনার উপায় ও করণীয়..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ঘরে ঘরে হঠাৎ জ্বরের প্রকোপ: সাধারণ ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু? জেনে নিন চেনার উপায় ও করণীয়..
ঘরে ঘরে হঠাৎ জ্বরের প্রকোপ: সাধারণ ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু? জেনে নিন চেনার উপায় ও করণীয়..
ছবি: সংগৃহীত
আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঋতুসন্ধির বৃষ্টি ও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে দেশজুড়ে ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বরের প্রাদুর্ভাব। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এক বা একাধিক সদস্য হঠাৎ জ্বর, শরীর ব্যথা, হাঁচি-কাশি ও দুর্বলতায় ভুগছেন। ত..

মৌসুমী ভাইরাল জ্বর বনাম ডেঙ্গু: পার্থক্য কোথায়?

সাধারণ ভাইরাল ফিভার এবং ডেঙ্গু দুইটির শুরুতেই তীব্র জ্বর দেখা দিলেও কিছু লক্ষণ দেখে এগুলোর পার্থক্য বোঝা সম্ভব:

  • মৌসুমী ভাইরাল ফিভার: সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি জ্বর (১০০-১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট), সঙ্গে সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা, হালকা কাশি ও গায়ে ব্যথা থাকে। এটি ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে আসে।

  • ডেঙ্গু জ্বর: হঠাৎ করেই তীব্র জ্বর (১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত), চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা, মাথা ব্যথা, হাড়ে বা জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা (যাকে হাড় ভাঙা জ্বরও বলা হয়) এবং শরীরে লালচে র্যাশ (Rash) দেখা দিতে পারে। এতে সর্দি বা কাশির উপসর্গ সাধারণত থাকে না।

জ্বর হলে শুরুতেই যেসব ভুল করা যাবে না

১. মনগড়া ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন: যেকোনো ভাইরাসের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হুট করে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না।

২. পেইনকিলার (ব্যথানাশক) সেবন: ডেঙ্গুর সাধারণ সময়ে ভুলবশত আইবুপ্রোফেন, নাপ্রোক্সেন বা ডায়ক্লোফেনাক জাতীয় পেইনকিলার খেলে শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। জ্বর ও শারীরিক ব্যথার জন্য কেবল প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন নিরাপদ।

৩. পানি পানে অবহেলা: জ্বরের সময়ে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার না খেলে রক্তচাপ কমে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ঘরে বসে যা করবেন

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার: পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার তরল (পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবুর শরবত ও স্যুপ) পান করতে হবে।

  • স্পঞ্জিং করা: জ্বর ১০০ ডিগ্রির ওপরে উঠলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে সুতি কাপড় ভিজিয়ে পুরো শরীর বারবার মুছে দিন।

  • প্রথম দিনেই পরীক্ষা: জ্বর আসার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে 'Dengue NS1 Antigen' পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, যাতে শুরুতেই নিশ্চিত হওয়া যায় এটি ডেঙ্গু কি না।

কখন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাবেন? (বিপদচিহ্ন)

যদি রোগীর মধ্যে নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিতে হবে:

  • অতিরিক্ত বমি হওয়া বা কিছু পেটে না থাকা

  • তীব্র পেট ব্যথা

  • মাড়ি, নাক বা পায়খানার পথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হওয়া

  • প্লাটিলেট বা প্রেসার কমে গিয়ে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঝিমুনি ও প্রস্রাব কমে যাওয়া

প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা

চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রধান হাতিয়ার। ঘরের বারান্দা, ফুলের টব, এসি কিংবা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা পানি প্রতি তিন দিনে অন্তত একবার ফেলে দিন। দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator