কিয়ামতের পূর্বসংকেত ও বিশ্বশান্তির বার্তা: কে এই ইমাম মাহদী?.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কিয়ামতের পূর্বসংকেত ও বিশ্বশান্তির বার্তা: কে এই ইমাম মাহদী?..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
কিয়ামতের পূর্বসংকেত ও বিশ্বশান্তির বার্তা: কে এই ইমাম মাহদী?..
কিয়ামতের পূর্বসংকেত ও বিশ্বশান্তির বার্তা: কে এই ইমাম মাহদী?..
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী আকিদা ও শেষ জামানার (আখেরী যামানা) বর্ণনায় যে কয়টি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ চরিত্র হলেন হযরত ইমাম মাহদী (আ.)। বিশ্বজুড়ে যখন..

হাদিসের বর্ণনায় ইমাম মাহদীর পরিচয় ও বংশলতিকা

সুন্নাহ ও সহিহ হাদিসের আলোকে ইমাম মাহদী কোনো কাল্পনিক চরিত্র নন, বরং তিনি শেষ জামানায় আগত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট উত্তরসূরি।

  • বংশ পরিচয়: হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর এবং হযরত হাসান (রা.)-এর সন্তানদের মধ্য থেকে তাঁর আগমন ঘটবে।

  • নাম ও অবয়ব: তাঁর নাম হবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে 'মুহাম্মদ' এবং তাঁর বাবার নাম হবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাবার নামে 'আবদুল্লাহ' (অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ)। হাদিস অনুযায়ী তাঁর কপাল হবে চওড়া এবং নাক হবে খাড়া ও সুদৃশ্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যদি পৃথিবীর আয়ুষ্কালের মাত্র একদিনও অবশিষ্ট থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা সেই দিনটিকে এত দীর্ঘ করবেন যতক্ষণ না আমার বংশের এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যার নাম আমার নামের সঙ্গে এবং তাঁর বাবার নাম আমার বাবার নামের সঙ্গে মিলে যাবে। সে পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারে ভরিয়ে দেবে, যেমনটা তা অন্যায় ও জুলুমে পূর্ণ ছিল।” (সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি)।

আগমনকাল ও বায়আত গ্রহণের স্থান

হাদিসের বিবরণ অনুযায়ী, শেষ জামানায় বিশ্বজুড়ে হাহাকার, যুদ্ধবিগ্রহ ও অন্যায়ের সয়লাব ঘটবে। ঠিক সেই সংকটাপন্ন মুহূর্তে মক্কায় কাবা শরীফ তাওয়াফকালে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ তাঁকে চিনে ফেলবেন।

তিনি নিজেকে আত্মপ্রকাশ করতে অনিচ্ছুক হলেও, স্থানটি মক্কার বায়তুল্লাহর রুকন ও মাকামে ইব্রাহিমের মধ্যবর্তী স্থানে বিশ্ব মুসলিমের একাংশ তাঁর হাতে আনুগত্যের হাত বা ‘বায়আত’ গ্রহণ করবে। পরবর্তীতে তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম)-কে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্বে ইসলামী খেলাফত ও ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থা পুনপ্রতিষ্ঠা করবেন।

দাজ্জালের ফেতনা ও হযরত ঈসা (আ.)-এর অবতরণ

ইমাম মাহদীর শাসনের শেষভাগে পৃথিবীতে আবির্ভাব ঘটবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফেতনা 'দাজ্জাল'-এর। দাজ্জালের তাণ্ডবে বিশ্ববাসী যখন দিশেহারা হয়ে পড়বে, ঠিক তখন দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের সাদা মিনারে আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে অবতরণ করবেন হযরত ঈসা (আ.)।

হাদিস অনুযায়ী, সিরিয়ার বায়তুল মাকদিসে ফজরের সালাতের ওয়াক্তে ইমাম মাহদী হযরত ঈসা (আ.)-কে ইমামতি করার অনুরোধ করবেন, তবে হযরত ঈসা (আ.) এই উম্মতের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইমাম মাহদীর পেছনেই সালাত আদায় করবেন। পরবর্তীতে হযরত ঈসা (আ.)-এর হাতেই দাজ্জাল নিহত হবে এবং পৃথিবীতে দীর্ঘকালের জন্য পরম শান্তি ও বরকত নেমে আসবে।

ভ্রান্ত ধারণা ও মুসলিমদের দায়িত্ব

যুগে যুগে অনেক ভণ্ড ও পথভ্রষ্ট লোক নিজেদের ‘ইমাম মাহদী’ দাবি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। তাই ইমাম মাহদী সম্পর্কে মনগড়া তথ্য বা সামাজিক মিডিয়ার ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে বিশুদ্ধ কুরআন-হাদিসের দলিল অনুসরণ করা জরুরি।

ইমাম মাহদীর আগমনের প্রতীক্ষায় অলস বসে থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং একজন খাঁটি মুমিন হিসেবে প্রতিনিয়ত ঈমান রক্ষা করা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা এবং নিজের পরিবার ও সমাজকে দ্বীনের ওপর পরিচালিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator