বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে শনি ও রোববার (১৭ ও ১৮ অক্টোবর) দুই দিনব্যাপী ‘মহাসপ্তমী’ তিথি থাকায় পরদিন থেকেই পুরোদমে শুরু হবে পূজার মূল শাস্ত্রীয় পর্ব।
দেবীর আগমন ও গমন:
পঞ্জিকামতে, জগতের সামগ্রিক মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে মর্ত্যলোকে আগমন করেছেন, যার শাস্ত্রীয় ফল ছত্রভঙ্গ বা সামাজিক অস্থিরতা বলে মনে করা হয়।
অপরদিকে পূজা শেষে দেবী মর্ত্যলোক ত্যাগ করে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন নৌকায় চেপে, যার শাস্ত্রীয় ফল শস্যবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি।
পূজা পরিক্রমা ও দিনপঞ্জি:
-
মহাসপ্তমী (১৭ ও ১৮ অক্টোবর): দেবীর রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি বিশেষ উদ্ভিদ স্নান করিয়ে ‘নবপত্রিকা’ প্রবেশ ও স্থাপন করা হবে।
-
মহাঅষ্টমী (১৯ অক্টোবর): উদযাপিত হবে মহাঅষ্টমী। এদিনের মূল আকর্ষণ অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত ‘সন্ধিপূজা’।
-
মহানবমী (২০ অক্টোবর): বিশেষ হোম-যজ্ঞ ও দেবীকে ভোগ নিবেদন।
-
বিজয়া দশমী (২১ অক্টোবর): দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানাবেন।
টানা ৫ দিনের সরকারি ছুটি:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে সরকারি চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছেন।
এই দীর্ঘ ছুটির কারণে রাজধানী ছেড়ে বাড়ি ফেরা মানুষ ও উৎসব ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
দেশজুড়ে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা:
উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে শেষ মুহূর্তের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা স্থাপন, দৃষ্টিনন্দন তোরণ ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি বাজছে ঢাক-ঢোল, কাঁসা ও শঙ্খের ধ্বনি।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র্যাব (RAB)-এর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি পূজা কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন রাখা হয়েছে।