বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি এই নির্দেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে:
-
মো. মনিরুল ইসলাম: সাবেক অতিরিক্ত আইজি ও সাবেক এসবি প্রধান।
-
সায়লা ফারজানা: মনিরুল ইসলামের স্ত্রী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব।
-
রেজাউল আলম শাহীন: মনিরুল ইসলামের শ্যালক।
-
সানজিদা খানম টুম্পা: শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের স্ত্রী।
ফ্রিজকৃত হিসাব ও টাকার বিবরণ:
দুদকের পক্ষে উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের দলনেতা মোজাম্মিল হোসেনের আদালতে পেশ করা আবেদন অনুযায়ী তাদের হিসাবের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
| ব্যক্তি | হিসাব সংখ্যা | মোট জমানো অর্থ |
| মনিরুল ইসলাম | ১১টি | ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা ও ৩,৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড |
| সায়লা ফারজানা | ৫টি | ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা |
| রেজাউল আলম শাহীন | ৪০টি | ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা |
| সানজিদা খানম টুম্পা | ২৭টি | ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা |
যে কারণে এই ব্যবস্থা:
আদালতে জমা দেওয়া দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়:
-
অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতা অপব্যবহার: পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা লোপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
-
এনজিও নিয়ন্ত্রণ দখল: জঙ্গিবাদের মিথ্যা তকমা দিয়ে ‘কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ’ এবং ‘শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল’ নামক এনজিওর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
-
বিদেশে অর্থ পাচারের আশঙ্কা: অনুসন্ধানে পাওয়া ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে টাকা উত্তোলন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। অর্থ স্থানান্তরিত হয়ে গেলে রাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বিবেচনায় আদালত এসব হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নামে বিপুল অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।