একসময় বিএনপিকে লক্ষ্য করে ‘ধর ধর বিএনপি ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’—এমন আক্রমণাত্মক স্লোগানের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে সেই ভিডিওতে আলোচিত সুমনের বর্তমান অবস্থান ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন কর্মী।
বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, ভিডিওতে দেখা বাইক শোডাউনটি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের কাট্টলী এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার আগের ঘটনা। তাঁদের অভিযোগ, একসময় বিএনপিবিরোধী অবস্থানে থাকা সুমন এখন আবারও শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর এই অবস্থান বদল তৃণমূলের অনেক কর্মীর মধ্যে বিস্ময় ও অসন্তোষ তৈরি করেছে।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন কর্মীর অভিযোগ, অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানির সঙ্গে সুমনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। অথচ এখন তাঁকে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের প্রশ্ন—যাঁর বিরুদ্ধে একসময় বিএনপিবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর তিনি কীভাবে আবারও রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠছেন?
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সুমনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। তাঁদের দাবি, ক্ষমতায় থাকা দলের পরিচয় বা প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আগে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করার অভিযোগ থাকলেও এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘিরেও একই ধরনের অভিযোগ উঠছে বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের অভিযোগ, সুমনের কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক আদর্শ নয়, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে অবস্থান তৈরি করা।
এখন প্রশ্ন উঠছে—যে ব্যক্তিকে ঘিরে বিএনপিবিরোধী স্লোগানের ভিডিও নিয়ে আলোচনা চলছে, তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান কী? শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে তাঁর সক্রিয়তার পেছনে কী ভূমিকা রয়েছে? আর অতীতের অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থানই বা কী?
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুরোনো অভিযোগে আলোচিত ব্যক্তিদের নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠা নিয়ে তৃণমূলের অসন্তোষের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।