ডুমুরিয়ায় মাদক বিরোধী অভিযানে দুই কারবারির কারাদণ্ড ও জরিমানা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ডুমুরিয়ায় মাদক বিরোধী অভিযানে দুই কারবারির কারাদণ্ড ও জরিমানা..

LATIF MORAL avatar   
LATIF MORAL
ডুমুরিয়ায় মাদক বিরোধী অভিযানে দুই কারবারির কারাদণ্ড ও জরিমানা..
ডুমুরিয়ায় মাদক বিরোধী অভিযানে দুই কারবারির কারাদণ্ড ও জরিমানা..
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।..

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে আটক এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলাটির বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার একটি আভিযানিক দল ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাদক কারবারি অনিক কুন্ডু অনতু ও মারুফ হোসেনকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃত অনিক কুন্ডু অনতু ডুমুরিয়া সদরের আরাজি সাজিয়াড়া এলাকার অলিপ কুন্ডুর ছেলে এবং মারুফ হোসেন একই এলাকার সোহরাব হোসেনের সন্তান। ঘটনাস্থল থেকে আটকের পরপরই তাদের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম সোহেল রানার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের উভয়কে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একশ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের এই দ্রুত বিচারিক পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে তাৎক্ষণিক সাড়া ফেলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ডুমুরিয়া সদরের বিভিন্ন অলিগলিতে মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদক কারবারিদের এমন বেপরোয়া কার্যকলাপে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে এবং এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছিল এবং বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন জনশূন্য এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল এবং বিভিন্ন কৌশলে তারা এই অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিল। অপরাধীদের দণ্ড প্রদানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, মাদক কারবারিদের মূল নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তাদের মূলোৎপাটন করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

অভিযান পরিচালনাকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এএসআই আব্দুল হালিম সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডুমুরিয়া উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই রায় মাদকের সাথে জড়িত অন্যদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, মাদক বিরোধী এই কার্যক্রম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সামাজিক অবক্ষয় রোধে নিয়মিত তদারকির অংশ। তবে কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, বরং মাদকের উৎসস্থলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

ডুমুরিয়ায় মাদক বিরোধী এই অভিযানের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের কোণঠাসা করা সম্ভব হলে আগামীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের হার অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা জামিনে বেরিয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়াবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। তাই প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা বজায় থাকলে ডুমুরিয়া তথা খুলনার বৃহত্তর অঞ্চলে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator