মোংলা পৌরসভায় মাসব্যাপী তীব্র পানি সংকট: ৩ নং ওয়ার্ডে নাগরিক ভোগান্তি চরমে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মোংলা পৌরসভায় মাসব্যাপী তীব্র পানি সংকট: ৩ নং ওয়ার্ডে নাগরিক ভোগান্তি চরমে..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
মোংলা পৌরসভায় মাসব্যাপী তীব্র পানি সংকট: ৩ নং ওয়ার্ডে নাগরিক ভোগান্তি চরমে..
মোংলা পৌরসভায় মাসব্যাপী তীব্র পানি সংকট: ৩ নং ওয়ার্ডে নাগরিক ভোগান্তি চরমে..
ছবি: সংগৃহীত
মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে গত এক মাস ধরে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন কয়েক হাজার বাসিন্দা।..

মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে গত এক মাস ধরে চলমান তীব্র পানি সংকট স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে স্থবির করে তুলেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত পাইপলাইনে দীর্ঘ সময় ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মানুষ এখন মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন। নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীলতা এবং সাম্প্রতিক শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এই সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে খাবার পানি সংগ্রহসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটাতে গিয়ে এলাকাবাসী যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, তা জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধির ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় প্রশাসন বা পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনরোষ ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন দুই বেলা মিলে এক বালতি পানি পাওয়াও এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ বাড়িতে নিজস্ব কোনো পুকুর বা বিকল্প পানির উৎস না থাকায় রান্নাবান্না, থালা-বাসন ধোয়া, কাপড় পরিষ্কার কিংবা গোসলের মতো মৌলিক কাজগুলো করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও এমন সেবা বিড়ম্বনা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া আশেপাশের পুকুরের পানি ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা এই পানির হাহাকারে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কোনো প্রকার প্রতিকার মিলছে না, যা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও নাগরিক সেবার প্রতি উদাসীনতার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ বলে তারা মনে করছেন।

পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই সংকট নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস পাওয়া যায়নি। সাধারণত যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা সরবরাহ লাইনে সমস্যার অজুহাত দেওয়া হলেও, দীর্ঘ এক মাস ধরে পানির সংকট অব্যাহত থাকাটা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই পরিচয় দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পৌর কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পাইপলাইন মেরামত কিংবা বিকল্প উপায়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না করে, তবে এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই ওয়ার্ডে জরুরি ভিত্তিতে পানির গাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা এবং সরবরাহ লাইনের ত্রুটি চিহ্নিত করে তা দ্রুত সংস্কার করা। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

পানির এই তীব্র সংকট কেবল একটি ওয়ার্ডের সীমাবদ্ধ সমস্যা নয়, বরং এটি মোংলা পৌরসভার সামগ্রিক অবকাঠামোগত ব্যর্থতার একটি প্রতিচ্ছবি। যদি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হবে এবং পৌর সেবার প্রতি জনগণের আস্থা সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে। যাতায়াত ও বসবাসের জন্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা পৌরসভার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলেও, পানি সংকটের মতো মৌলিক বিষয়ের প্রতি উদাসীনতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর হস্তক্ষেপ ও পানির স্বাভাবিক সরবরাহ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে অন্তত দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সচল রাখা সম্ভব হয় এবং আসন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করা যায়।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator