বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বিএম তারিকুল কবীরের আদালত এই বহুল আলোচিত মামলার রায় দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম।
অভিযুক্তের পরিচয় ও মামলার পটভূমি
আসামি সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে। সিয়াম ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বাদী হয়ে গত বছরের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলায় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। পরে তদন্ত শেষে চার্জশিটে সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আদালতের কার্যক্রম ও উভয়পক্ষের যুক্তি
গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সিয়াম নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১৫ অক্টোবর রায়ের দিন ধার্য করেন।
দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, “আমরা সিয়ামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আসামির সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রত্যাশা করছি।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, “দুদক সিয়ামের নামের তথাকথিত অবৈধ সম্পদের বিষয়টি আদালতে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আশা করছি তিনি বেকসুর খালাস পাবেন।”