জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সমন্বয়কদের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক: রাশেদ খানের বিস্ফোরক অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সমন্বয়কদের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক: রাশেদ খানের বিস্ফোরক অভিযোগ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সমন্বয়কদের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক: রাশেদ খানের বিস্ফোরক অভিযোগ..
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সমন্বয়কদের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক: রাশেদ খানের বিস্ফোরক অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে তীব্র বিতর্ক উসকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. র..

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে গত ১৯ জুলাই যখন রাজপথে শত শত ছাত্র-জনতা আত্মাহুতি দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান বুধবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ পোস্টে দাবি করেছেন, সেই সংকটময় মুহূর্তে আন্দোলনের মূল দাবিকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প কর্মসূচি ঘোষণা করে গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন তারা। রাশেদ খানের ভাষ্যমতে, ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবি যখন ৯ দফা নিয়ে সোচ্চার ছিল, তখন আন্দোলনের একাংশ ৮ দফার কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল, যা মূলত তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নেরই নামান্তর ছিল।

ভুক্তভোগী ও আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, ১৯ জুলাইয়ের সেই বৈঠকে যোগদানের বিষয়টি ছিল শহীদদের রক্তের সাথে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। রাশেদ খান তার পোস্টে আরও দাবি করেন যে, হাসনাত আবদুল্লাহ সেদিন হাসিব আল ইসলামকে ফোন করে মেস থেকে ডেকে নিয়ে মন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। যদিও সেই সময় অনেকেই শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় ওই বৈঠকে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, কিন্তু সারজিস ও হাসনাত সেই নীতিবিরুদ্ধ কাজে শামিল হয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাশেদ খানের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি বা অন্যান্য বিষয়ে বিতর্ক থাকলেও, সেই সংকটকালীন মুহূর্তে জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে ৯ দফা দাবিকে বানচাল করার যে অপচেষ্টা তারা চালিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় গাদ্দার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। নেত্র নিউজে প্রকাশিত বহিষ্কারের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন এবং সে সময়কার সমন্বয়কদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এহেন গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা খণ্ডন পাওয়া যায়নি। সাধারণত এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সমন্বয়করা নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি উপস্থাপন করলেও, এবার রাশেদ খানের সরাসরি ফেসবুক পোস্টের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি বা স্পষ্টিকরণ দেওয়া হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্দোলনের ভেতরকার এই পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি এবং নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব জনমনে গণঅভ্যুত্থানের অর্জনের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি করতে পারে। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এ ধরনের অভিযোগের সুরাহা না হলে তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।

পরিশেষে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো একটি ঐতিহাসিক ঘটনার নেপথ্যে থাকা সমন্বয়কদের ভূমিকা নিয়ে এমন বিতর্কিত দাবি দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং সমন্বয়কদের দায়বদ্ধতা যখন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তখন এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং সত্য উদ্ঘাটন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশেদ খানের এই অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। একইসাথে, এই বিতর্কের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ছাত্র রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator