বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন: জাতীয় সংসদ ভবনে শেষ শ্রদ্ধা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন: জাতীয় সংসদ ভবনে শেষ শ্রদ্ধা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন: জাতীয় সংসদ ভবনে শেষ শ্রদ্ধা..
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন: জাতীয় সংসদ ভবনে শেষ শ্রদ্ধা..
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গুণগ্রাহীরা অংশ নেন।..

বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই জানাজায় প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ জাতীয় সংসদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মরহুমের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এই জানাজাটি মূলত জাতীয় পর্যায়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সংসদীয় অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তার শেষ বিদায়ের প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা-৪ আসনের প্রতিনিধিত্বকারী এই নেতার অনুসারীরা তার কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এমন একজন অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতার প্রয়াণ বিএনপি তথা স্থানীয় রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। নয়াপল্টন ও শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, সালাহউদ্দিন আহমেদ শুধু একজন সংসদ সদস্য ছিলেন না, বরং তিনি তৃণমূলের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় জানাজার জন্য তার মরদেহ নয়াপল্টন ও শ্যামপুরে নিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন, যা তার প্রতি জনগণের গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মরহুমের জানাজা ও দাফন কর্মসূচি তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার ও দল। সংসদ ভবনে প্রথম জানাজা শেষে দুপুর দেড়টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সবশেষে বিকেল ৩টায় শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার ঐতিহাসিক লাল মসজিদ প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাজা শেষে জুরাইন কবরস্থানে তার বাবার কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার কথা রয়েছে। জানাজায় উপস্থিত বিএনপি ও সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সততার প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতার অভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব আগামী দিনে ঢাকা-৪ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে স্পষ্ট হতে পারে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও দলের প্রতি আনুগত্য নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে রয়ে যাবে। জুরাইন কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে একটি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক যুগের অবসান ঘটলো। ভবিষ্যতে পরিবহন ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে তার যেসব পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। পরিশেষে, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের মূল্যায়নই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator