ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় রিজভীর নিন্দা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় রিজভীর নিন্দা

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় রিজভীর নিন্দা
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় রিজভীর নিন্দা
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি একে ক্ষমতাচ..

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে, যা দ্রুত রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই ঘটনার জন্য সরাসরি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারী কিছু ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। ড. ইউনূসের মতো একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের প্রতি এ ধরনের আচরণ কেবল ব্যক্তিগত অসম্মান নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের মর্যাদার ওপর একটি আঘাত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বরূপ আবারও জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ভুক্তভোগী ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, যা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ক্ষমতা কাঠামোকে ধসিয়ে দিয়েছিল। রিজভীর দাবি অনুযায়ী, সেই ক্ষোভ থেকেই আওয়ামী লীগের লোকজন এই হেনস্তার পথ বেছে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে ক্ষমতা হারানোর দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারেনি। ভুক্তভোগী ড. ইউনূসকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, তা প্রবাসে বসবাসরত সাধারণ বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তারা মূলত দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই রুট ডাইনামিক্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের ভেতরের অস্থিরতা এখন সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও স্থানান্তরিত হয়েছে।

এই ঘটনার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মহল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, গত শাসনামলে দেশজুড়ে যে গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল, সেই দুর্বৃত্তপরায়ণ মানসিকতা এখনো বিদেশের মাটিতে সক্রিয় রয়েছে। রুহুল কবির রিজভী প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াতকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আনা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেবল নিন্দা নয়, বরং প্রশাসনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

ড. ইউনূসকে হেনস্তার এই ঘটনাটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখার পাশাপাশি প্রবাসে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড যদি এভাবেই অব্যাহত থাকে, তবে তা কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মেরুকরণই বাড়াবে না, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি করবে। ভবিষ্যতে পরিবহন বা ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক হাবগুলোতে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সম্মান রক্ষা করতে হলে সরকারকে কূটনৈতিক পর্যায়ে আরও সতর্ক ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। এই ঘটনা সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং দেশের সম্মান রক্ষায় একটি গভীর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator