মোংলায় বিশাল পলিথিন সিন্ডিকেটের সন্ধান: ৩ হাজার কেজি জব্দ, ব্যবসায়ীর জরিমানা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মোংলায় বিশাল পলিথিন সিন্ডিকেটের সন্ধান: ৩ হাজার কেজি জব্দ, ব্যবসায়ীর জরিমানা..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
মোংলায় বিশাল পলিথিন সিন্ডিকেটের সন্ধান: ৩ হাজার কেজি জব্দ, ব্যবসায়ীর জরিমানা..
মোংলায় বিশাল পলিথিন সিন্ডিকেটের সন্ধান: ৩ হাজার কেজি জব্দ, ব্যবসায়ীর জরিমানা..
ছবি: সংগৃহীত
মোংলা পৌর শহরের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ ও মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।..

বাগেরহাটের মোংলা পৌর শহরের প্রধান বাজার এলাকায় অবস্থিত ডাঃ আঃ সামাদ সড়কে মঙ্গলবার দুপুরে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে মেসার্স রাকিবুল এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৭৪ মন ৩২ কেজি বা ৩ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবুল মোল্লাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে মোংলা থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত অবৈধ পলিথিনের মজুত ও বিপণন চক্রকে চিহ্নিত করতেই এই আকস্মিক অভিযান চালানো হয়, যা স্থানীয় বাজারে পরিবেশ বিধ্বংসী পণ্যের অবাধ বিচরণকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

অভিযানে জব্দকৃত পলিথিনের পরিমাণ সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মোংলার বিভিন্ন বাজারে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় নিষিদ্ধ পলিথিনের রমরমা বাণিজ্য চলছে। অভিযানের সময় দোকানি বাবুল মোল্লার কেবল দোকান নয়, বরং মাকড়ঢোন এলাকার ব্যক্তিগত বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়, যা প্রমাণ করে যে স্থানীয়ভাবে একটি শক্তিশালী মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি নিয়মিত না থাকায় ব্যবসায়ীরা এই ধরনের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে। পলিথিনের এই বিশাল মজুত কেবল আইন অমান্য করাই নয়, বরং স্থানীয় ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, কেবল জরিমানা করে এই সিন্ডিকেটকে থামানো সম্ভব নয়, কারণ বারবার একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবেশের সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। বাগেরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন অভিযানের সময় উপস্থিত থেকে জব্দকৃত পলিথিনের ভয়াবহতা ও পরিবেশগত ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরেন। প্রশাসনের ভাষ্যমতে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের উৎপাদন, মজুত ও বিপণন সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার সুমী জানান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বিকল্প পণ্যের উচ্চমূল্য ও সহজলভ্যতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা নিষিদ্ধ পণ্যের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে জানানো হয়েছে যে, আইনের ঊর্ধ্বে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় এবং পলিথিন বিরোধী কার্যক্রমে কোনো প্রকার শৈথিল্য দেখানো হবে না।

মোংলার এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিষিদ্ধ পলিথিনের ভয়াবহ প্রসারের একটি সতর্কবার্তা। ৩ হাজার কেজি পলিথিন জব্দ করার পরও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, এই পলিথিনগুলো কোথায় থেকে সরবরাহ করা হতো এবং এর পেছনে মূল হোতা কারা। যদি সরবরাহ চেইন বা মূল উৎপাদনকারী সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা না যায়, তবে কেবল খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করে এই জাতীয় বিপর্যয় রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর আইনি প্রয়োগ ছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন এই জনপদকে পলিথিন দূষণমুক্ত রাখা বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator