ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা রজনীকান্ত ও মিঠুন চক্রবর্তী দীর্ঘ সময় পর আবারও একই পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন নেলসন দিলীপকুমারের পরিচালিত প্রতীক্ষিত সিনেমা জেলার ২-এর মাধ্যমে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় বিরতির পর তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে মিঠুন চক্রবর্তীর এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রবীণ অভিনেতা সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় নির্মাতাদের কাছে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দেন, যা বর্তমানে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রজনীকান্তের ভাষ্যমতে, চিত্রনাট্য পাওয়ার পর মিঠুন চক্রবর্তী জানতে চেয়েছিলেন তার চরিত্রটি খলনায়কের কি না এবং সেই চরিত্রে রজনীকান্তের হাতে তাকে মার খেতে হবে কি না। মূলত পর্দায় রজনীকান্তের মারধর বা গুলির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই তিনি এই শর্তটি দিয়েছিলেন, যা পুরো প্রোডাকশন টিমের কাছে বেশ চমকপ্রদ একটি বিষয় ছিল।
পর্দায় নিজের ভাবমূর্তি ও রজনীকান্তের সাথে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জায়গা থেকেই মিঠুন চক্রবর্তী এই শর্তটি উত্থাপন করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রজনীকান্ত জানিয়েছেন, মিঠুন তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে যদি চিত্রনাট্যে তাকে রজনীকান্তের কাছে মার খেতে হয়, তবে তিনি এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে আগ্রহী নন। বিষয়টি নিয়ে দুই তারকার মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনাও হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ওয়েভস সামিটের একটি অনুষ্ঠানে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। মিঠুন চক্রবর্তী মজা করেই হোক কিংবা সিরিয়াসলি, এই শর্তটি দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত রজনীকান্তের সাথে তার সমান্তরাল অবস্থানের বিষয়টিই নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। রজনীকান্ত বিষয়টি নিয়ে পরিচালকের সাথে কথা বলার আশ্বাস দিলেও, এটি মূলত দুই সুপারস্টারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও বন্ধুত্বেরই একটি অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার ২ সিনেমায় রজনীকান্তের বিপরীতে মিঠুন চক্রবর্তীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে, তবে তার চরিত্রের পরিধি বা ধরন নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রজনীকান্তের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা এবং ১৯৮৯ সালের ভ্রষ্টাচার সিনেমা থেকে শুরু করে ভাগ্য দেবতা পর্যন্ত তাদের দীর্ঘ কাজের ইতিহাস এই প্রজেক্টের প্রতি দর্শকদের প্রত্যাশা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্মাতারা মিঠুন চক্রবর্তীর শর্তকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং চিত্রনাট্যে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার এই সিনেমায় মিঠুন চক্রবর্তীর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্য এবং শিল্পমানকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা রজনীকান্তের ভক্তদের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
জেলার ২ সিনেমায় রজনীকান্ত ও মিঠুন চক্রবর্তীর পাশাপাশি মোহনলাল, রম্যা কৃষ্ণন এবং বিদ্যা বালানের মতো তারকারা অভিনয় করছেন, যা এটিকে ভারতের অন্যতম বড় বাজেটের সিনেমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী ১৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই সিনেমাটি কেবল বিনোদনের নতুন মাধ্যম নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রবীণ প্রজন্মের তারকাদের পুনর্মিলনের একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। মিঠুন চক্রবর্তীর এই শর্ত এবং তার ফিরে আসার সিদ্ধান্তটি তামিল চলচ্চিত্র শিল্পের দর্শকদের মধ্যে এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে, এই সিনেমাটি মুক্তির পর বক্স অফিসে কেমন প্রভাব ফেলে এবং দুই কিংবদন্তির রসায়ন দর্শকদের কতটা তৃপ্ত করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।