আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ, ক্ষোভ মুসলিমদের | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ, ক্ষোভ মুসলিমদের

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ, ক্ষোভ মুসলিমদের
আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ, ক্ষোভ মুসলিমদের
ছবি: সংগৃহীত
আজারবাইজানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন পোশাকবিধির আওতায় পরোক্ষভাবে হিজাব নিষিদ্ধ করায় দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, যা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মধ্যকার সংকটকে সামনে নিয়..

আজারবাইজানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরিধানের ওপর পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রেক্ষিতে দেশটিতে তীব্র সামাজিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে। গত মাসে সরকারিভাবে অনুমোদিত নতুন পোশাকবিধিতে সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ না থাকলেও, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজাব পরিহিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ১২ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই বিধিনিষেধের ফলে দেশটির বিভিন্ন স্কুলে ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই পদক্ষেপকে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ও অভিন্ন পোশাকবিধি নিশ্চিত করার প্রয়াস হিসেবে দাবি করা হলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এটিকে তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীরাই নয়, বরং কারাবন্দি সাংবাদিক পোলাদ আসলানভসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনশন ও আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মতে, এই পোশাকবিধি তাদের কেবল শিক্ষার পরিবেশ থেকেই বিচ্ছিন্ন করছে না, বরং তাদের ব্যক্তিগত আত্মপরিচয় ও বিশ্বাসের ওপর চরম আঘাত হানছে। শিক্ষিকা জাহরা হাসানোভা তার প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, হিজাব তার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তা জোরপূর্বক খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া অনৈতিক ও বেদনাদায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, হিজাব পরার অপরাধে স্কুলে প্রবেশ করতে না পেরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছে, যা দেশটির শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান ভয়াবহ বাস্তবতাকে তুলে ধরছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পোশাকের স্বাধীনতার নামে সরকার মূলত একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে প্রান্তিক করার চেষ্টা করছে। স্থানীয় পর্যায়ে অন্তত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সাধারণ মানুষ এই দমনমূলক আচরণ মেনে নেওয়ার পক্ষে নেই।

এদিকে আজারবাইজানের শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন এই পোশাকবিধি শিক্ষকদের পেশাগত মান বজায় রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই শিক্ষাবিষয়ক পরিষদের অনুমোদনের সাপেক্ষে হতে হবে। প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনাকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে তুরস্কসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে, তাকে তিনি আজারবাইজানের জীবনযাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সমালোচকরা দাবি করছেন, প্রশাসন আলোচনার পরিবর্তে দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।

আজারবাইজানের এই পোশাক বিতর্ক দেশটিকে ১৯৯৭ সালের তুরস্কের উত্তাল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। শিক্ষাঙ্গনে হিজাব নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অস্তিত্বের সংকটকে উসকে দিচ্ছে। যদি সরকার দ্রুত এই বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা না করে, তবে আগামী দিনে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে। সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। এই বিতর্কিত নীতি আজারবাইজানের তরুণ প্রজন্মের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator