ভারতের উত্তর প্রদেশে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার দায়ে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, জব্দ মাইক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভারতের উত্তর প্রদেশে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার দায়ে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, জব্দ মাইক..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ভারতের উত্তর প্রদেশে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার দায়ে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, জব্দ মাইক..
ভারতের উত্তর প্রদেশে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার দায়ে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, জব্দ মাইক..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনরে নির্ধারিত শব্দসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার এবং মসজিদের মাইক জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।..

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনর জেলায় উচ্চস্বরে লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামক এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত শনিবার নাজিবাবাদ এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং এবং পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই সরকারি কাজে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে উচ্চশব্দে আজান শুনতে পান, যা তাদের মতে নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রম করেছিল। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সুপার কোতোয়ালি থানার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন এবং এরপরই পুলিশ মসজিদে অভিযান চালিয়ে মাইক জব্দ করে। উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে শব্দদূষণ বিধি লঙ্ঘন এবং শান্তিভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়, যার প্রেক্ষিতে তাকে বিচারিক আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাটি প্রশাসনিক কঠোরতার একটি নতুন নজির স্থাপন করেছে, যেখানে ধর্মীয় উপাসনালয়ের কার্যক্রমকে সরাসরি সরকারি শব্দ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের ক্ষেত্রে শব্দসীমার কঠোর প্রয়োগ সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রশাসনিক অভিযানের নামে এই ধরনের পদক্ষেপ ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বাভাবিক ইবাদতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে যথাযথ তদারকি না করার অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচকরা বলছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে ধর্মীয় প্রতীক বা উপাসনালয়ের মাইকের ওপর এই ধরনের আকস্মিক অভিযান দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। একই সাথে মসজিদের মাইক জব্দ করার ঘটনাটি উপাসনালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

অন্যদিকে, বিজনর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে একে সরকারি ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিংয়ের ভাষ্যমতে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং তা কার্যকর করা প্রশাসনের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজনরের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থিত সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইক অনুমোদিত শব্দসীমার মধ্যে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিট কনস্টেবলদের মাধ্যমে হলফনামা জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে জেলাজুড়ে চালানো অভিযানে দুই হাজার পাঁচশয়েরও অধিক মাইক অপসারণের তথ্য জানিয়ে প্রশাসন বলছে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ নয়, বরং শব্দদূষণ রোধই তাদের মূল লক্ষ্য।

এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হিসেবে উত্তর প্রদেশের পরিবহন ও জনজীবনসহ ধর্মীয় সামাজিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি কেবল বিজনর জেলায় সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় শব্দদূষণ একটি বড় সমস্যা হলেও ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইকের ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ সামাজিক সংহতির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রশাসনিক এই কঠোরতা যদি সুষমভাবে প্রয়োগ করা না হয়, তবে তা অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি ও সামাজিক বিবাদের জন্ম দিতে পারে, যা জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator