সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ডিজিটাল অপপ্রচারের দায়ে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ডিজিটাল অপপ্রচারের দায়ে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ডিজিটাল অপপ্রচারের দায়ে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে..
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ডিজিটাল অপপ্রচারের দায়ে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে..
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা ও সহিংসতা উসকানির অভিযোগে গ্রেফতারকৃত দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্..

রাজধানীর পল্লবী ও বনানী এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গত ১২ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে, উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক দিদারুল আলম চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। মূলত সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংসতায় উসকানি প্রদান, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার তথ্যমতে, আসামিরা দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পরিকল্পনা করছিলেন, যা রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পরিপন্থী।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, গ্রেফতারকৃতরা পল্লবীর একটি বাসাকে কেন্দ্র করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ এবং ‘BBM Transparency’ নামক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচার করছিলেন। এছাড়া ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পলাতক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগসাজশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে তারা ‘কালআজকাল.কম’ নামক ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন যে, আসামিদের কর্মকাণ্ড কেবল ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ, যা জননিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিনের আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করে দিয়েছেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে অবহিত করেছেন যে, রিমান্ডের মাধ্যমে আসামিদের সহযোগী চক্রের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা, অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা এবং দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে তাদের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক উদঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন এবং ১০১ সদস্যের কমিটি তৈরির আড়ালে তারা তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন। মামলার মূল রহস্য উন্মোচন এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির পেছনে আরও কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে রিমান্ডের প্রয়োজন অনস্বীকার্য বলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হারুন অর রশিদ আদালতে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে নজরদারি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা প্রকট হয়ে উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের মতো সংবেদনশীল অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি এবং রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে একইভাবে যারা রাষ্ট্রবিরোধী ডিজিটাল অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে, তাদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে। সামগ্রিকভাবে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামোর সঠিক প্রয়োগ এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো গোষ্ঠীই রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের সাহস দেখাতে না পারে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator