গুড়পুকুরের মেলায় অর্থ আদায় নিয়ে প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সংকট ও জনভোগান্তির অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

গুড়পুকুরের মেলায় অর্থ আদায় নিয়ে প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সংকট ও জনভোগান্তির অভিযোগ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
গুড়পুকুরের মেলায় অর্থ আদায় নিয়ে প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সংকট ও জনভোগান্তির অভিযোগ..
গুড়পুকুরের মেলায় অর্থ আদায় নিয়ে প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সংকট ও জনভোগান্তির অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলায় স্টল, তাঁবু, ডেকোরেশন, ইট ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলায় স্টল, তাঁবু, ডেকোরেশন, ইট ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বিভিন্ন খাতে টাকা দিয়েও তাঁরা নিয়মিত বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, মেলার কারণে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ১১ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জুঁই হানি ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা নাহিদা আক্তার।

আবেদনে নাহিদা আক্তার উল্লেখ করেন, তাঁর স্টলের তাঁবুর জন্য ৭ হাজার টাকা, ডেকোরেশনের জন্য ৯ হাজার টাকা এবং ইট বাবদ ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এ ছাড়া দৈনিক চাঁদা হিসেবে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং তিনটি লাইটের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। শৌচাগারয় ব্যবহারের জন্যও প্রতিবার ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নাহিদা আক্তারসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আলাদা অর্থ নেওয়া হলেও সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে পণ্য সংরক্ষণ,  দোকান পরিচালনা ও বিক্রিতে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুতের জন্য অর্থ নেওয়ার পরও কেন নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

মেলায় আচার-চাটনির দোকান পরিচালনাকারী আব্দুস সামাদ জানান, তাঁর স্টলের তাঁবুর জন্য ২০ হাজার টাকা এবং ডেকোরেশনের জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অর্থ অফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা দিতে হয়, যার মধ্যে পাঁচটি লাইটের জন্য ৫০০ টাকা রয়েছে।

সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর থেকে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ২০ দিনব্যাপী গুড়পুকুরের মেলা শুরু হয়েছে। মেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪৩০টি স্টল রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা হিসাবে ৪৩০টি স্টল থেকে দৈনিক আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এই হিসাব অপরিবর্তিত থাকলে ২০ দিনে মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া জামানত বাবদ প্রায় এক কোটি টাকা আদায়ের কথাও জানা গেছে।

তবে এসব অর্থ আদায়ের প্রকৃত পরিমাণ, খাতভিত্তিক হিসাব, নির্ধারিত ফি ও আদায়ের বৈধতা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষের হিসাব ও বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবতীতে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র প্রকাশ করা হবে।


মেলার দোকানগুলোতে অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, অনিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে শর্টসার্কিট, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় মেলার বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমোদন, তারের নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক লোড এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

মেলার কারণে নবারুণ স্কুল, সরকারি মহিলা কলেজ ও বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, যানজট ও চলাচলের প্রতিবন্ধকতার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিতেও। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলায় দোকান পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসান এড়াতে তাঁদের অনেকেই বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে মেলায় আসা দর্শনার্থীদেরও বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মেলার স্টল বরাদ্দ, তাঁবু ও ডেকোরেশনের খরচ, জামানত, দৈনিক অর্থ আদায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিটি খাতে নির্ধারিত ফি প্রকাশ, অর্থ আদায়ের রসিদ প্রদান, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা স্থানীয় সংস্কৃতি ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মেলার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকেরা।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator