রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের তথ্য জানানো হয়।
মৃত্যু ও নতুন আক্রান্তের চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যেসব শিশু মারা গেছে, তারা সবাই হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। তবে এ সময়ে নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বিজ্ঞপ্তির হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৩ জন শিশুর দেহে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৮০ জন। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৭৩ জন। এই সময়ে ১ হাজার ১০২ জন শিশু নতুন করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ১৫ জন।
সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৫৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু। অর্থাৎ, দুই মিলিয়ে এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৬২ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহজনক বা উপসর্গযুক্ত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ৫ হাজার ২৮ জনে, যার মধ্যে ২২ হাজার ৪২১ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যেই বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের শিশুদের হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং টিকা দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরম পরামর্শ দিয়েছেন।