থাইল্যান্ডে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বৈঠক, যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

থাইল্যান্ডে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বৈঠক, যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
থাইল্যান্ডে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বৈঠক, যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে..
থাইল্যান্ডে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বৈঠক, যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে..
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এবং আকাশচুম্বী সুদের হারের মতো চরম বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে চলতি সপ্তাহে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সমবেত হচ্ছেন বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ..

১০ হাজারের বেশি প্রতিনিধি ও যাত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাংককজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্বশরীরে এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না; তার প্রতিনিধি হিসেবে দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যোগ দিচ্ছেন।

আলোচনার মূল ইস্যু: হরমুজ প্রণালী, ডিজেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধি

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম 'হরমুজ প্রণালী' সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজেল ও সারের আকাশচুম্বী দাম এবং বৈরী আবহাওয়া ‘সুপার এল নিনো’-এর জোড়া ধাক্কা।

সম্মেলনের প্রাক্কালে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দার বার্তা দিয়ে বলেন, “শীতকাল ঘনিয়ে আসছে।” আইএমএফের গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্য ও জ্বালানির দামের আকস্মিক বৃদ্ধি দারিদ্র্য বাড়িয়ে তুলছে এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের ট্রিলিয়ন ডলারের তেলের চাল ও রাজনৈতিক প্রভাব

সংকট মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এছাড়া আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি করেছেন, যার অধীনে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করে বিশ্ববাজারে আরও ডিজেল সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা ও উন্নয়নশীল দেশের উদ্বেগ

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা সরকারি ঋণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সরকারি ঋণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ২০৩০ সালের আগেই বৈশ্বিক জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে উদীয়মান ও স্বল্প আয়ের দেশগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজস্ব আয়ের ১০ শতাংশেরও বেশি চলে যাচ্ছে ঋণের সুদ মেটাতে। কেনিয়ার মতো দেশগুলোতে কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে ছড়িয়ে পড়া তরুণদের বিক্ষোভের উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএমএফের কঠোর শর্ত ও ব্যয় সংকোচন নীতি দরিদ্র দেশগুলোর ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির এই মেলবন্ধনে ব্যাংকক সম্মেলন থেকে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার কী বার্তা আসে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator