স্বর্ণের আজকের বাজারদর | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

স্বর্ণের আজকের বাজারদর

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
স্বর্ণের আজকের বাজারদর
স্বর্ণের আজকের বাজারদর
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক স্বর্ণের দাম বারবার সমন্বয় করায় বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বৈশ্বিক ও স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দামের দোহাই দিয়ে অস্থির এই বাজার পরিস্থিতি সাধারণ ক্রেতাদের..

দেশের স্বর্ণের বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে চরম অস্থিরতা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ানো ও কমানোর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। অথচ এর মাত্র কয়েক দিন আগেই দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বাজারের এই অস্বাভাবিক ওঠানামা এবং ঘনঘন মূল্য সমন্বয়ের কারণে প্রকৃত খুচরা ক্রেতারা বাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজুসের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামের অস্থিরতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, সাধারণ ভোক্তারা এই ঘনঘন পরিবর্তনকে এক ধরনের সিন্ডিকেট কারসাজি হিসেবেই দেখছেন।

স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী দামের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। গহনা কেনা অনেকের জন্য এখন বিলাসিতার চেয়েও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ, স্বর্ণের দাম যখন বিশ্ববাজারে কমে, তখন স্থানীয় বাজারে সেই অনুপাতে দাম কমানো হয় না, অথচ দাম বাড়ার খবর এলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়। এছাড়া জুয়েলারি দোকানগুলোতে গহনার মজুরি এবং ভ্যাটের হিসাব নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্যাট বিক্রয়মূল্যের অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বাজারের এমন অস্থিতিশীলতায় ক্ষুদ্র বিক্রেতারাও বিপাকে পড়েছেন, কারণ উচ্চমূল্যের কারণে বিনিয়োগ ও বিক্রির পরিমাণ নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের ভাষ্যমতে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দামের ওপর ভিত্তি করেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধুমাত্র তেজাবি স্বর্ণের দামের দোহাই দিয়ে এভাবে বারবার দাম পরিবর্তন করা ভোক্তা স্বার্থবিরোধী। কোনো ধরনের স্বাধীন তদারকি সংস্থা বা সরকারি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের কঠোর নজরদারি না থাকায় বাজুস একচেটিয়াভাবে এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সরাসরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল ব্যবসায়ীদের সংগঠনের ওপর নির্ভর না করে যৌক্তিক একটি মূল্য কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।

স্বর্ণের বাজারের এই অস্থিরতা কেবল অলংকার কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং সঞ্চয়ের প্রবণতার ওপরও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের ওপর মানুষের যে আস্থা ছিল, তা বর্তমানের এই অস্থিরতায় টলমল করছে। সাধারণ মানুষ এখন স্বর্ণের পরিবর্তে বিকল্প বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে, যা জুয়েলারি শিল্পের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম যদি স্থিতিশীল না হয়, তবে দেশের জুয়েলারি খাত বড় ধরনের ধসের সম্মুখীন হতে পারে। ক্রেতাদের আস্থা ফেরাতে এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি বিনিয়োগের এই খাতটি সম্পূর্ণ প্রতিকূল হয়ে পড়বে।

Комментариев нет


News Card Generator