দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ দেড় শতাধিক আন্দোলনকারী আটক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ দেড় শতাধিক আন্দোলনকারী আটক..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ দেড় শতাধিক আন্দোলনকারী আটক..
দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ দেড় শতাধিক আন্দোলনকারী আটক..
ছবি: সংগৃহীত
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ দেড় শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।..

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে শনিবার জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬-এ অবস্থিত তার নিজ বাসভবন থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত নির্বাচনি তালিকার অসংগতি ও সরকারি অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল এবং যন্তর মন্তরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে এবং দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারী ও ছাত্রকর্মীকে আটক করা হয়। ধ্রুব রাঠির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির আটকের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

আটককৃতদের স্বজন ও সিজেপির পক্ষ থেকে পুলিশের এই পদক্ষেপকে ভিন্নমত দমনের একটি কৌশল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে। সিজেপির মুখপাত্র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ধ্রুব রাঠি এবং অন্যান্য ছাত্রকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় যে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে, তা ধামাচাপা দিতেই সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে কণ্ঠরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। গুরগাঁও থেকে যন্তর মন্তরের পথে রাঠির আটক হওয়ার ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণ নয়, বরং নাগরিক অধিকারের ওপর এক ধরনের নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মাঠ পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে জলকামান ও ব্যারিকেড ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও যথাযথ অনুমতির অভাব থাকার কারণেই এই বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রতিহত করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, জাতীয় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো জমায়েত করতে দেওয়া হবে না। তবে আন্দোলনকারীরা পুলিশের এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে একে প্রশাসনিক স্বৈরাচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী, কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর আগেই তা নিয়ন্ত্রণের নামে এভাবে গণগ্রেপ্তার চালানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে এখন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির অবনতি রোধে আগামী কয়েক ঘণ্টা দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

এই সামগ্রিক ঘটনাটি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নাগরিক অধিকারের সংকীর্ণতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির মতো জনমত গঠনকারী ব্যক্তিকে আটক করার মাধ্যমে প্রশাসন যে বার্তা দিতে চেয়েছে, তা ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আটকের ঘটনাটি ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে বড় ধরনের আন্দোলনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। পরিবহন ব্যবস্থা ও জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে নাগরিক অধিকার খর্ব করার এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। বিক্ষোভ দমনের এই প্রক্রিয়া কেবল সাময়িক উত্তেজনা প্রশমন করতে পারে, কিন্তু নির্বাচনি অসংগতি ও সিজেপির উত্থাপিত মূল দাবিগুলো অমীমাংসিত থেকে যাওয়ায় জনমনে দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator