ভারতে স্টারলিংক ইন্টারনেট বাজারে বিবাদ আরো বাড়িয়ে দিলেন বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভারতে স্টারলিংক ইন্টারনেট বাজারে বিবাদ আরো বাড়িয়ে দিলেন বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
ভারতে স্টারলিংক ইন্টারনেট বাজারে বিবাদ আরো বাড়িয়ে দিলেন  বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক..
ভারতে স্টারলিংক ইন্টারনেট বাজারে বিবাদ আরো বাড়িয়ে দিলেন  বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশে বাধা নিয়ে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানালেন ইলন মাস্ক, যেখানে তিনি আম্বানির রাজনৈতিক অনুদান ও একচেটিয়া আধিপত্যকে বিবাদের কেন্দ্..

বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক এবং ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের কর্ণধার মুকেশ আম্বানির মধ্যকার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে মাস্ক সরাসরি ভারতের প্রভাবশালী ধনিক শ্রেণি বা অলিগার্কদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। এই বিবাদের সূত্রপাত মূলত গত সপ্তাহে, যখন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন যে, ভারতের বাজারে নিজের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আম্বানি এবং সুনীল মিত্তালের মতো ব্যবসায়ীরা স্টারলিংকের পথ রুদ্ধ করছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন মাস্ক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপির সঙ্গে রিলায়েন্সের অর্থায়নের যোগসূত্র নিয়ে বেশ কিছু সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করেন। মাস্কের এই আক্রমণ শুধুমাত্র ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও কর্পোরেট প্রভাবের প্রশ্নকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার এই বৃহৎ অর্থনীতির টেলিকম খাতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মাস্কের শেয়ার করা প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে যে, রিলায়েন্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুইক সাপ্লাই নামক একটি কোম্পানি নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে বিজেপিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনুদান দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই কোম্পানিটি প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড মূল্যের বন্ড ক্রয় করেছিল, যা তাদের ওই সময়ের তৃতীয় বৃহত্তম দাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। যদিও রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে কুইক সাপ্লাইকে তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নয় বলে দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু রয়টার্সের নথিপত্র বলছে রিলায়েন্সের তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই কোম্পানিটির অর্ধেকেরও বেশি শেয়ারের মালিক। এছাড়া আল-জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রিলায়েন্সের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিজেপির প্রচারণাকে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগী মহলের মতে, ভারতের টেলিকম বাজারে জিও এবং এয়ারটেলের যে দ্বৈত আধিপত্য বা ডুয়োপলি বিদ্যমান, তা এই ধরনের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক আঁতাতের মাধ্যমেই টিকে আছে, যা নতুন প্রযুক্তি বা বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিপরীতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাস্কের দাবিকে ভিত্তিহীন এবং ভুল ধারণাপ্রসূত হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত সরকার কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তির প্রতি পক্ষপাতহীন নীতি মেনে চলছে এবং স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম বরাদ্দের ক্ষেত্রে সব কোম্পানিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, স্টারলিংক লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে তাদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, এই বিতর্কের মুখে রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং আকাশ আম্বানি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই নীরবতা এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষতার দাবি সত্ত্বেও, মাস্কের তোলা রাজনৈতিক অনুদানের অভিযোগগুলো ভারতের টেলিকম নীতিমালার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পরিশেষে, মাস্কের এই আক্রমণ ভারতের টেলিকম খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। রাহুল গান্ধীর মতো বিরোধী দলীয় নেতাদের এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়া বিষয়টি প্রমাণ করে যে, স্টারলিংক বনাম রিলায়েন্সের এই লড়াই অদূর ভবিষ্যতে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে মাস্কের মতো বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অন্যদিকে ভারতের স্থানীয় শিল্পপতিদের রাজনৈতিক প্রভাবের এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকের জন্য ইন্টারনেট সেবার মান ও খরচের ওপর প্রভাব ফেলবে। ভারতের বাজারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কর্পোরেট আধিপত্য কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা এখন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির ভবিষ্যতের ডিজিটাল অবকাঠামোর গতিপথ নির্ধারণ করবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator