খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর আশঙ্কা, সাতক্ষীরায় বাড়ি থেকে ৭ লাখ টাকার সম্পদ উধাও.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর আশঙ্কা, সাতক্ষীরায় বাড়ি থেকে ৭ লাখ টাকার সম্পদ উধাও..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর আশঙ্কা, সাতক্ষীরায় বাড়ি থেকে ৭ লাখ টাকার সম্পদ উধাও..
খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর আশঙ্কা, সাতক্ষীরায় বাড়ি থেকে ৭ লাখ টাকার সম্পদ উধাও..
ছবি: সংগৃহীত
খাবার বা পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর সন্দেহের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বাড়ির গ্রীল কেটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামে..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা: 

খাবার বা পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর সন্দেহের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বাড়ির গ্রীল কেটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামে। এ ঘটনায় সাড়ে চার ভরি সোনার গহনা ও নগদ দেড় লাখ টাকাসহ সাত লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর '২৬) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সঞ্জয় ওরফে লিটন সাহা ব্রহ্মরাজপুর সাহাপাড়ার নিতাই সাহার (কবিরাজ) ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড়ের পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিসে কর্মরত।

সঞ্জয় সাহা জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রী মৌসা রানী সাহা ছোট ছেলে দীপ্ত সাহাকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে প্রাণ ডাক্তারের বাড়ির সামনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে আসার পর তিনিসহ তাঁর মা মনিকা সাহা এবং বড় মেয়ে পিউ সাহাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পিউ সাতক্ষীরা ডিবি গার্লস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পরে তাঁরা স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক বিকাশের কাছে চিকিৎসা নেন।

সঞ্জয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন শনিবার (১০ অক্টোবর '২৬) সকালে ঘুম থেকে উঠে তাঁরা বাড়ির পেছনের ঘরের গ্রীল কাটা দেখতে পান। ঘরের ভেতরে জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। বাড়ির সামনের বারান্দার গ্রীলও কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরে শোকেসের ড্রয়ার ভাঙা দেখতে পেয়ে তাঁরা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। সঞ্জয় জানান, চোরেরা তিনটি সোনার চেইন, দুই জোড়া সোনার কানের দুল, এক জোড়া শাখা বাঁধানো, এক জোড়া কানপাশা, দুটি সোনার আংটি, দুটি সোনার চেইনের লকেট, একটি মঙ্গলসূত্র এবং নগদ দেড় লাখ টাকা নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের মূল্য সাত লাখ টাকার বেশি বলে দাবি তাঁর।

সঞ্জয় সাহার আশঙ্কা, রান্নাঘরের বারান্দায় রাখা পানির ফিল্টার অথবা রান্নাঘরে থাকা খাবারে বিষাক্ত কোনো পদার্থ মিশিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। সেই পানি বা খাবার গ্রহণের পর পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের অসুস্থতার সুযোগে চোরচক্রটি শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ির পেছনের জানালার গ্রীল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। পরে শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে সোনার গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে সামনের বারান্দার গ্রীল কেটে বেরিয়ে যায় বলে তাঁর ধারণা।

তবে খাবার বা পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরীক্ষার ফলাফল ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন।

ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল থেকে ভাত ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator