বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সামান্য প্রবৃদ্ধি: অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় নতুন সমীকরণ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সামান্য প্রবৃদ্ধি: অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় নতুন সমীকরণ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সামান্য প্রবৃদ্ধি: অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় নতুন সমীকরণ..
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সামান্য প্রবৃদ্ধি: অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় নতুন সমীকরণ..
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আইএমএফের বিপিএম-৬ মানদণ্ড অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।..

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১৫৮ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আগের দিন ৭ অক্টোবর এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ১২৩ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা গতি সঞ্চার হওয়ার ফলেই রিজার্ভের এই সামান্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই বৃদ্ধি কতটা টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের চাপ কমাতে সক্ষম হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বা আইএমএফের স্বীকৃত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের দিন ছিল ৩১ হাজার ৩১১ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের এই দুটি ভিন্ন হিসাব পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তি তৈরি করলেও মূলত নিট রিজার্ভের ওপরই গুরুত্বারোপ করে থাকেন নীতিনির্ধারকরা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদী দায় বা ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বিয়োগ করার পরই প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের হিসাব পাওয়া যায়। আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে ডলারের বাজারে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিয়মিত এলসি খোলা এবং বৈদেশিক দায় মেটানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে, তার প্রভাব এই রিজার্ভ বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়িক মহল দাবি করছে।

রিজার্ভের এই পরিসংখ্যানের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। আরিফ হোসেন খান জানান, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের কোনো ধস নামার আশঙ্কা নেই। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র রিজার্ভের সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রিজার্ভের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে তদারকি আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে কোনোভাবেই কৃত্রিম ডলার সংকট তৈরি না হয় এবং আমদানিকারকরা সময়মতো তাদের দায় পরিশোধ করতে পারেন।

সামগ্রিক বিচারে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই সামান্য বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হলেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এখনো বড় উদ্বেগের কারণ। রিজার্ভের এই পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে আমদানিকৃত পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে তারল্য সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি রেমিট্যান্স প্রবাহে এই গতিধারা আগামী মাসগুলোতেও বজায় থাকে, তবেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে, যা দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator