দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু প্রকোপ মোকাবিলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৪ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী পালিত জনসচেতনতা সপ্তাহের আওতায় বিশেষ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বিরল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহতা এবং এর বিস্তার রোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। উপজেলা আমির হাফেজ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে বিরল পৌরসভার ব্যস্ততম বাজারে এই সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে মশা নিধন এবং নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন, যা স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সচেতনতা কার্যক্রমের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানির কারণে মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষকে মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। স্থানীয়রা বলছেন, কেবল লিফলেট বিতরণ নয়, বরং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিকল্পিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অভাবে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান। এছাড়া উপজেলা সেক্রেটারি আজমীর হোসাইন, বিরল পৌরসভা সভাপতি মাজেদুর রহমান এবং পৌরসভা মেয়র প্রার্থী মোঃ আলতাব হোসেনসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা নিধন কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতের এই সংকটে কেবল রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর সমন্বয় ও নজরদারি অপরিহার্য। তারা নিয়মিত ফগার মেশিন ব্যবহার এবং মশা প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করার ওপর বিশেষ জোরারোপ করেন।
বিরল উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কেবল এক সপ্তাহের সচেতনতা কার্যক্রম নয়, বরং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বছরজুড়ে কার্যকর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে। এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টি করলেও, প্রশাসনিক ও পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ পুরোপুরি নির্মূল করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে পরিবহন ও জনসমাগমস্থলগুলোতেও অনুরূপ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বজায় রাখা প্রয়োজন, যাতে বিরল উপজেলাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব হয় এবং সাধারণ নাগরিকরা একটি নিরাপদ পরিবেশ পায়।