সাতক্ষীরা আদালত উমেদারমুক্ত, কমবে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাতক্ষীরা আদালত উমেদারমুক্ত, কমবে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরা আদালত উমেদারমুক্ত, কমবে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি..
সাতক্ষীরা আদালত উমেদারমুক্ত, কমবে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি..
ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের উদ্যোগে ৪৯ উমেদারের কার্যক্রম বন্ধ | স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ার আশা..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা;


সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিভিন্ন আদালতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত প্রায় ৪৯ জন উমেদারের কার্যক্রম বন্ধ করে আদালতকে উমেদারমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের উদ্যোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এর ফলে আদালতে সেবা নিতে আসা বিচারপ্রার্থীরা এখন সংশ্লিষ্ট শাখা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে সরাসরি সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আদালত সংশ্লিষ্টদের মতে, উমেদারদের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে আর্থিক লেনদেন, হয়রানি ও ভোগান্তির সুযোগ তৈরি হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ কারণে উমেদারদের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তকে আদালতের সেবাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আদালতের পরিবেশ স্বচ্ছ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে আদালতে সেবা নিতে আসা বিচারপ্রার্থীদের কোনো ধরনের হয়রানি কিংবা অনৈতিক লেনদেনের শিকার না হওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু বলেন, আদালত উমেদারমুক্ত করার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে বিচারপ্রার্থীরা মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট শাখা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা নিতে পারবেন। এতে আদালতের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি কৌশলী অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল বলেন, সাধারণ মানুষের আদালতের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত জরুরি। উমেদারমুক্ত আদালত ব্যবস্থা বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমানোর পাশাপাশি সেবাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে ভূমিকা রাখবে।

অ্যাডভোকেট মুহাঃ মনিরুদ্দীন বলেন, বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে আসেন। তাদের কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। উমেদারদের কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ সেই নির্ভরশীলতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আদালতে আসা কয়েকজন বিচারপ্রার্থীও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, আদালতের বিভিন্ন কাজে কোথায় যেতে হবে কিংবা কীভাবে নির্দিষ্ট সেবা পাওয়া যাবে—এ নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হলে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।

তবে শুধু উমেদারদের কার্যক্রম বন্ধ করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিচারপ্রার্থীদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা, তথ্যপ্রাপ্তির সহজ ব্যবস্থা, সেবা প্রদানের নির্ধারিত পদ্ধতি এবং অনৈতিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আদালত উমেদারমুক্ত করার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেবাব্যবস্থায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বিচারপ্রার্থীদের আস্থা আরও বাড়বে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator