বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন এস জয়শঙ্কর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন এস জয়শঙ্কর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন এস জয়শঙ্কর..
বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন এস জয়শঙ্কর..
ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহর বিদায়ী সাক্ষাতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও তার অবদানের বিশেষ স্বীকৃতি দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।..

দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহ তার দায়িত্ব পালন শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। গত রবিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে হাইকমিশনারের দীর্ঘ কর্মকাল এবং তার নানামুখী তৎপরতার মূল্যায়ন করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার জটিল ও বহুমাত্রিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে রিয়াজ হামিদুল্লাহ যেভাবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা এই কূটনৈতিক আলাপচারিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মূলত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিদায়ী প্রতিনিধিকে এমন স্বীকৃতি প্রদান দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বের গভীরতাকে নির্দেশ করে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এই বিদায়ী বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাক্ষাৎকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর অবদান অনস্বীকার্য। গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজিক ও ভূ-রাজনৈতিক যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে একজন দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। রিয়াজ হামিদুল্লাহর মেয়াদকালে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির যে ধারা সূচিত হয়েছে, তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তার এই কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে আগামী দিনগুলোতে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সাফল্য কামনা করেছেন। এই ধরণের উচ্চপর্যায়ের স্বীকৃতি কেবল একজন কূটনীতিকের জন্য ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান স্থিতিশীলতাকেও নির্দেশ করে।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের মতে, রিয়াজ হামিদুল্লাহর বিদায় এমন এক সময়ে ঘটছে যখন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়টি বর্তমান সময়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ইতিবাচক মূল্যায়ন পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক যোগাযোগ চ্যানেলগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে সচল রয়েছে। যদিও দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা সময়ে নানা সমীকরণ তৈরি হয়, কিন্তু পেশাদার কূটনীতিকদের নিবিড় যোগাযোগের কারণে সেই প্রভাব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে না। বিদায়ী সাক্ষাতে জয়শঙ্করের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং প্রশংসা বার্তা আগামী দিনে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিশেষে, একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিকের বিদায় এবং তার কাজের স্বীকৃতি প্রদান দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান আস্থার জায়গাটিকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিয়াজ হামিদুল্লাহর পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে যিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তার সামনেও একই ধরণের চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব থাকবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রশংসাপত্র প্রমাণ করে যে, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল দাপ্তরিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপরও অনেকাংশে নির্ভরশীল। এই বিদায়ী সাক্ষাতের মাধ্যমে ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator