সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা: বনরক্ষীদের গুলিতে পণ্ড দস্যুদের তৎপরতা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা: বনরক্ষীদের গুলিতে পণ্ড দস্যুদের তৎপরতা..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা: বনরক্ষীদের গুলিতে পণ্ড দস্যুদের তৎপরতা..
সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা: বনরক্ষীদের গুলিতে পণ্ড দস্যুদের তৎপরতা..
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় তোলপাড়; বনরক্ষীদের ধাওয়া ও গুলিবর্ষণে পিছু হটল সশস্ত্র বনদস্যু দল।..

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় নোঙর করে থাকা পর্যটকবাহী জাহাজ ‘দি ওয়েভ-২’ লক্ষ্য করে একদল সশস্ত্র বনদস্যুর আকস্মিক এগিয়ে আসার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে কটকা খালের মোহনায় এই উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটে, যখন জাহাজটিতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৯৭ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় জেলেরা দ্রুত বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করলে শরণখোলা রেঞ্জের বনরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে একটি টহল বোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা দ্রুত ট্রলার ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সরকারি বাহিনীর সদস্যরা চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুলির তীব্রতায় দস্যুরা সাগরের গভীর দিকে দ্রুত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, যার ফলে একটি ভয়াবহ ডাকাতির কবল থেকে পর্যটকবাহী জাহাজটি রক্ষা পায়। মূলত বনরক্ষীদের দ্রুত তৎপরতা এবং স্থানীয় জেলেদের সতর্কতার কারণেই পর্যটকদের জানমাল অক্ষত রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার পর পর্যটকবাহী জাহাজ ‘দি ওয়েভ-২’-এর মাস্টার মো. শামিম আলমসহ সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেখানে কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকার কথা, সেখানে গভীর রাতে সশস্ত্র দস্যুদের এমন তৎপরতা পর্যটন খাতের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী পর্যটক ও জাহাজ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সুন্দরবনের দুর্গম এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলের অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শিথিলতাকে কাজে লাগিয়েই বনদস্যুরা বারবার এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে। বিশেষ করে কটকার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে যখন পর্যটকবাহী জাহাজ নোঙর করে থাকে, তখন সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাহাজ মাস্টারদের ভাষ্যমতে, এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পর্যটকদের মনে সুন্দরবন ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভীতি ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই শিল্পের প্রসারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনাটির প্রেক্ষিতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে, পর্যটকবাহী জাহাজকে টার্গেট করে এমন ঘটনা নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বনদস্যুদের অপতৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা নিয়মিত জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধে লিপ্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোস্টগার্ডের রাতের টহল জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করা হলেও, মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা কাঠামো কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পর্যটন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও, দস্যুদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যা দেশের সামগ্রিক পর্যটন খাতের সুনামের ওপর প্রভাব ফেলে। বর্তমান মৌসুমে পর্যটকদের ভিড় বাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও স্থায়ী টহল চৌকি স্থাপনের বিষয়টি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। যদি এই দস্যু চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা না যায়, তবে পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হতে পারেন, যা ইকো-ট্যুরিজম শিল্পের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। বন বিভাগ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে যদি দ্রুত কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা না হয়, তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও পর্যটন ব্যবসার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবেই থেকে যাবে।

نظری یافت نشد


News Card Generator