চাঁদপুরে ফ্যানের রেগুলেটর মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরে ফ্যানের রেগুলেটর মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরে ফ্যানের রেগুলেটর মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু..
চাঁদপুরে ফ্যানের রেগুলেটর মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের রেগুলেটর মেরামত করতে গিয়ে হাসিবুল্লাহ নামের এক যুবকের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে।..

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সাপদী গ্রামে গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাসিবুল্লাহ নামের ২২ বছর বয়সী এক যুবকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। নিজ বাড়িতে সিলিং ফ্যানের রেগুলেটর মেরামতের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে এলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মূলত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে কারিগরি কাজ করতে গিয়েই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যে একটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এই ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, হাসিবুল্লাহ সেফায়েত উল্লাহর একমাত্র সন্তান ছিলেন এবং নিজ ঘরে ফ্যানের গতির নিয়ন্ত্রণকারী রেগুলেটরটি ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন। কাজ চলাকালীন বিদ্যুতের মূল সংযোগটি বন্ধ না থাকায় তিনি সরাসরি কারেন্টের প্রবাহের কবলে পড়েন। স্থানীয়রা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের কারিগরি জ্ঞান বা সচেতনতার অভাবে প্রায়ই এমন ছোটখাটো মেরামতের কাজ করতে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। হাসিবুল্লাহর মৃত্যুতে তার পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। নিহতের আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, একটি ছোট ত্রুটি ঠিক করতে গিয়ে যে জীবন দিতে হবে তা ছিল তাদের কল্পনার বাইরে। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও বিদ্যুৎ প্রবাহের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তাকে বাঁচানোর সুযোগ খুব একটা মেলেনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই যুবকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছিল। মূলত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ শরীরে বিদ্যুতের প্রভাব থাকায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বারবার সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈদ্যুতিক রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। যেকোনো বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় মেইন সুইচ বন্ধ রাখা বা দক্ষ টেকনিশিয়ানের সহায়তা নেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা না মানার ফলেই এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

হাসিবুল্লাহর এই আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয় জনমনে নিরাপত্তা সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতা যে কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি নির্মম উদাহরণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে এবং যেকোনো বৈদ্যুতিক সমস্যার ক্ষেত্রে পেশাদার বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে দিয়ে কাজ করানোর বিকল্প নেই। এছাড়া পরিবারের অভিভাবকদের উচিত বাড়িতে ছোটখাটো বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখা। হাসিবুল্লাহর মৃত্যুতে পরিবারের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়, তবে তার এই মৃত্যু যেন অন্যদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator