শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সরাসরি এই দপ্তরকে ফ্যাসিবাদের পাহারাদার হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশেও চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের দৌরাত্ম্য আগের মতোই বহাল রয়েছে। সাতকানিয়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত উক্ত সভায় তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা নিয়ে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, সেই মূল লক্ষ্য থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান অবস্থান বিচ্যুতি ঘটাচ্ছে, যা জনমনে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও মাঠপর্যায়ে চাঁদাবাজি ও পেশিশক্তির দাপট কমেনি, বরং এর ধরণ পরিবর্তিত হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের চেয়ে নির্বাচনের দিকে অধিক মনোযোগী হওয়ার ফলে দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটগুলো পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের নামে চাঁদাবাজির টাকা এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তৃণমূলের সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার মতে, নির্বাচনের নামে যারা কেবল ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, তারা দেশের প্রকৃত সংস্কার বা সুশাসনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে অবজ্ঞা করছেন।
এই ধরণের কঠোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যদি পুনরায় পেশিশক্তি, দুর্নীতির টাকা এবং মাসল পাওয়ার প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়, তবে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের শক্তিগুলো চুপ করে বসে থাকবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নামে পুনরায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করা হয়, তবে গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের টুঁটি চেপে ধরতে বাধ্য হবে। স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্নীতির চর্চা যে দেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে, তা তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে এবং তিনি এ বিষয়ে অবিলম্বে কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিশেষে, জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতার বক্তব্য দেশের বর্তমান পরিবহন ও স্থানীয় রাজনীতিতে একটি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অভ্যন্তরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসর বা দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা এবং গণ-অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে এবং বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোকে অবিলম্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে, অন্যথায় দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ চরম সংকটের মুখে পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।