পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাফিক সার্জেন্টের সাথে অসদাচরণ: লেডি বাইকারসহ দম্পতিকে কারাদণ্ড.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাফিক সার্জেন্টের সাথে অসদাচরণ: লেডি বাইকারসহ দম্পতিকে কারাদণ্ড..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাফিক সার্জেন্টের সাথে অসদাচরণ: লেডি বাইকারসহ দম্পতিকে কারাদণ্ড..
পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাফিক সার্জেন্টের সাথে অসদাচরণ: লেডি বাইকারসহ দম্পতিকে কারাদণ্ড..
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর প্রতিবাদ করায় ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে অসদাচরণ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দায়ে এক দম্পতিকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।..

রাজধানীর পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে বা ৩০০ ফিট সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টের সংকেত উপেক্ষা ও অসদাচরণের দায়ে মোসা. স্বপ্না ও তার স্বামী মাহফুজুর রহমানকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ট্রাফিক বাড্ডা জোনের সার্জেন্ট যখন যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নেন, তখনই ওই দম্পতি আইন অমান্য করে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেডি বাইকার হিসেবে পরিচিত স্বপ্না ও তার স্বামী ঘটনাস্থলে উপস্থিত সার্জেন্টের সঙ্গে যে ধরনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করেন, তা মূলত প্রচলিত ট্রাফিক আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও সরকারি দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধার শামিল। আইনের তোয়াক্কা না করে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মোটরসাইকেলটি থামানোর পর আইনানুগ কারণ জানতে চাওয়াই ছিল সার্জেন্টের অপরাধ। কিন্তু এর বিপরীতে ওই দম্পতি নিজেদের ভুল স্বীকার না করে উল্টো সার্জেন্টের ওপর চড়াও হন এবং তাকে হেনস্তা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, নারী আরোহী সার্জেন্টের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন এবং উচ্চবাচ্যের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তার পেশাদার দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন। ব্যক্তিগত প্রচারণার আড়ালে বা সামাজিক মর্যাদার দোহাই দিয়ে সড়কে যে বিশৃঙ্খলা তৈরির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, তা সাধারণ পথচারী ও অন্যান্য চালকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে দায়িত্ব পালনরত একজন পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে যে ধরনের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে, তা মূলত ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ভুক্তভোগী সার্জেন্টের পেশাদারিত্বের বিপরীতে অভিযুক্তদের এই আচরণ সড়কে বিদ্যমান অস্থিরতা ও আইন না মানার প্রবণতাকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্তদের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। ট্রাফিক বাড্ডা জোনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে কোনো অবস্থাতেই সরকারি কাজে বাধা বা অসদাচরণ সহ্য করা হবে না। অভিযুক্তদের দাবি বা তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অজুহাতই আইন ভঙ্গের এই অপরাধকে ম্লান করতে পারছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ট্রাফিক আইন অমান্য করা কিংবা দায়িত্ব পালনরত কোনো সদস্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। এই দণ্ডাদেশের মাধ্যমে মূলত একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষ ছাড় পাবে না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্মান ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়বদ্ধতা।

এই ঘটনার প্রভাবে রাজধানীর পরিবহন খাতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব বিস্তারকারী বা পরিচিত মুখদের দ্বারা আইন লঙ্ঘনের এই ঘটনা সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল অটুট রাখার স্বার্থে এমন ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেবল কঠোর দণ্ডাদেশই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার মানসিকতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক সদস্যদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সড়কে বিশৃঙ্খলা কমে আসবে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

Комментариев нет


News Card Generator