উজ্জয়িনীতে হিন্দু তীর্থযাত্রার অজুহাতে প্রাচীন মসজিদ ভাঙার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

উজ্জয়িনীতে হিন্দু তীর্থযাত্রার অজুহাতে প্রাচীন মসজিদ ভাঙার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
উজ্জয়িনীতে হিন্দু তীর্থযাত্রার অজুহাতে প্রাচীন মসজিদ ভাঙার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা..
উজ্জয়িনীতে হিন্দু তীর্থযাত্রার অজুহাতে প্রাচীন মসজিদ ভাঙার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উজ্জয়িনীতে ২০২৮ সালের কুম্ভ মেলার রাস্তা প্রশস্ত করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক মসজিদের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।..

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলাকে কেন্দ্র করে রাস্তা প্রশস্ত করার অজুহাতে শতাব্দী প্রাচীন শাহী মসজিদের একাংশ ভেঙে ফেলার সরকারি উদ্যোগে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত রবিবার রাতে যখন স্থানীয় প্রশাসন বুলডোজার নিয়ে মসজিদ এলাকায় উপস্থিত হয়, তখন শত শত মুসলিম নাগরিক সেই ভাঙন রুখতে রাতভর পাহারায় লিপ্ত হন। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর আদালত জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পকে বৈধতা দিলে, উজ্জয়িনী পৌরসভা মসজিদ কর্তৃপক্ষকে স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ প্রদান করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, কারণ অতীতে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে একই ধরনের সরকারি অভিযানে গভীর রাতে মসজিদ ও মাজারের মতো স্থাপনা ধ্বংসের নজির রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সোমবার সকালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়, যার ফলে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং অনেকে গ্রেপ্তার হন।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদের এই ধারা কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ। ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবসায়ী জিশান খানসহ স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন তাদের সামনে দুটি কঠিন বিকল্প রেখেছিল—হয় নিজেরা মসজিদ ভেঙে ফেলুন, নতুবা সরকারি বুলডোজারে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এই চরম অপমানজনক পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে মসজিদ কমিটি কাঠামোর একটি অংশ নিজেদের হাতেই ভাঙতে শুরু করে। ভুক্তভোগীদের মতে, আদালতের রায় এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থান তাদের ধর্মীয় অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ, যা স্থানীয় মুসলিম জনমানসে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এআই-জেনারেটেড গুজবের দোহাই দিয়ে প্রশাসন যেভাবে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তা স্থানীয়দের মধ্যে আস্থার সংকট আরও প্রকট করে তুলেছে।

এই সংবেদনশীল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক সংগঠন। জামায়াত-ই-ইসলামি হিন্দের সভাপতি সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনি এই ঘটনাকে কেবল একটি মসজিদের সমস্যা হিসেবে না দেখে আইনের শাসনের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা বা স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করেই উপাসনালয় ভাঙার প্রক্রিয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এদিকে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, প্রশাসনিকভাবে পুরো এলাকা সিল করে দিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মিনারের অংশবিশেষ সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে প্রশাসন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ যে, উন্নয়নের নামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের এই প্রক্রিয়া ভারতের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে।

উজ্জয়িনীর এই ঘটনা ভারতের সামগ্রিক পরিবহন ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সাথে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর সংঘাতের একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। উন্নয়নের নামে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির চেয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণকে বেশি ত্বরান্বিত করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং জাতীয় স্তরেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতাবোধ এবং প্রতিবাদের সংস্কৃতি তৈরি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

コメントがありません


News Card Generator