অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪-২ গোলে পরাজিত করে নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ম্যাচের শুরুতেই ভান্দেরসনের ভলিতে ব্রাজিল লিড নিলেও রক্ষণভাগের কিছুটা শৈথিল্য কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়া দুই গোল করে ম্যাচে এগিয়ে যায়। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে ড্যানিলোর ফাউলের শিকার হওয়া এবং ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি থেকে রাফিনিয়ার গোল ব্রাজিলকে সমতায় ফেরায়। এই গোলটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সেলেসাওদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ম্যাচের প্রথমার্ধের কৌশলগত পরিবর্তন এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করার পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পর ব্রাজিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে আবির্ভূত হয়, যেখানে তাদের প্রতিটি মুভমেন্ট ছিল পরিকল্পিত এবং লক্ষ্যভেদী। ব্রুনো গিমারায়েসের চমৎকার প্রতি-আক্রমণ থেকে আসা গোলটি ব্রাজিলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেয়, যা অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে ফেলে। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করেন এবং তা থেকে নিজেই চতুর্থ গোলটি নিশ্চিত করেন। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের সামনে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের এই দাপট প্রমাণ করে যে, আনচেলত্তির অধীনে দলের বোঝাপড়া এবং ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। ভুক্তভোগী অস্ট্রেলীয় ডিফেন্ডারদের অসহায়ত্ব এবং ব্রাজিলের ফিনিশিং দক্ষতা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ফুটবল বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, যদিও ব্রাজিল জয় পেয়েছে, তবুও রক্ষণভাগে শুরুতে যে ঘাটতি দেখা গেছে তা বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলের এই জয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও পরবর্তী ম্যাচের আগে রক্ষণাত্মক কৌশলে আরও উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার কোচিং প্যানেল ভিএআর সিদ্ধান্ত এবং পেনাল্টি নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গতির প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন। এই প্রীতি ম্যাচটি কেবল জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, বরং বিশ্বকাপের পরবর্তী বাছাইপর্বের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যাচাইয়ের একটি বড় সুযোগ ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অস্ট্রেলিয়া সফর সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এখন ব্রাজিলের মূল মনোযোগ কলকাতার ঐতিহাসিক সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের দিকে। আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি কেবল একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং এশিয়ার দর্শকদের সামনে সেলেসাওদের ফুটবলের জাদুকরী প্রদর্শনী দেখার একটি বড় সুযোগ। এই সফরের জয়ী ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভারত ম্যাচেও নিজেদের সেরাটা দিতে বদ্ধপরিকর ব্রাজিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের মানচিত্রে এই ধরনের সফর বিশ্বব্যাপী ফুটবল ভক্তদের মাঝে নতুন উন্মাদনা তৈরি করছে এবং ব্রাজিলের পরবর্তী মিশনটি ফুটবলের বৈশ্বিক প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।