• লালমনিরহাটে পিইডিপি-৪ প্রকল্পে অনিয়ম: কাজ না করেই তুলে নেওয়া হলো জামানতের টাকা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

• লালমনিরহাটে পিইডিপি-৪ প্রকল্পে অনিয়ম: কাজ না করেই তুলে নেওয়া হলো জামানতের টাকা..

Foysal Sourov avatar   
Foysal Sourov
• লালমনিরহাটে পিইডিপি-৪ প্রকল্পে অনিয়ম: কাজ না করেই তুলে নেওয়া হলো জামানতের টাকা..
• লালমনিরহাটে পিইডিপি-৪ প্রকল্পে অনিয়ম: কাজ না করেই তুলে নেওয়া হলো জামানতের টাকা..
ছবি: সংগৃহীত
ফয়সাল সৌরভ,
জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পিডিপি-৪ প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের আওতায় ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর, প্রধান ফটক ও রংগের নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এলজিইডি সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৪) অর্থায়নে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর ও গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ৩ কোটি টাকার চুক্তিতে যৌথভাবে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পায় হোসেন ট্রেডার্স নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। কাজটি হোসেন ট্রেডার্সের কাছ থেকে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন কিনে নেন। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। এরই মধ্যে জামানতসহ বিল উত্তোলন করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রকৌশলী।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে সানিয়াজান নিজ শেখ সুন্দর মাস্টারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কাজ আজ পর্যন্ত শেষ হয়নি। স্কুলের সীমানাপ্রাচীরের ওপর গ্রিল, রং ও গেট নির্মাণের কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার জামানতের টাকা উত্তোলন করে চলে গেছেন।

সীমানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান বলেন, কাজের সাইটে ঠিকাদার কিংবা এলজিইডি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেউই আর খোঁজখবর রাখছেন না। মাস দুয়েক আগে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী এসে ছবি তুলে গেছেন। এরপর কাজের আর কোনো খবর নেই।

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে হোসেন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মুঠোফোনে জানান, কাজটি দুই-চার দিনের মধ্যে শেষ হবে। তিনি হাতীবান্ধায় মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ ভূঁইয়াকে কাজটি শেষ করার দায়িত্ব দিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যোগেন্দ্র নাথ সেন বলেন, পিডিপি-৪ প্রকল্পের কাজ জুনে শেষ হয়েছে। আমি প্রকৌশলীর সঙ্গে বারবার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর জবাবে তিনি বলেন, ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন। এখন আমাদেরই সেই কাজ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, আমার একটাই ভুল হয়েছে, জামানতের টাকার চেকে সই করা। তবে এখন জরিমানা দিতে হলেও আমাকে নিজেই কাজটা করতে হবে। কারণ, ভুল যখন করেছি।

এ বিষয়ে ওই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর মামুন বলেন, আমার দুটি প্যাকেজের কাজ চলমান। উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন আমাদের না জানিয়ে স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। তবে আমাদের কাজ চলমান। প্রকৌশলীকে ২২ লক্ষ টাকা পে-অর্ডার করে জমা রাখার কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের সঙ্গেও কথা বলেছি, কিন্তু কোনো সুরাহা পাইনি।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator