মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাদের গনি চৌধুরী বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেন। তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতা এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে জনগণের আঙিনায় স্থানান্তরিত হয়েছে। ডেল্টাগ্রামের জনমত জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সরকারের প্রতি ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ জনসমর্থন বিদ্যমান রয়েছে, যা তারেক রহমানের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ বিএনপির অবদান এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শন সেই ধারাবাহিকতা ও নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগের সমন্বয়ে গঠিত, যা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে কাদের গনি চৌধুরী জানান, সরকারের কঠোর তদারকি ও ব্যাংক খাতে সংস্কারের ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। তার দাবি অনুযায়ী, গত নয় মাসে খেলাপি ঋণের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। একইসঙ্গে, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে বর্তমান সরকার যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, তা দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও দায়বদ্ধতার প্রমাণ দেয়। ভুক্তভোগী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ এবং ‘প্রবাসী কার্ড’-এর মতো উদ্যোগগুলো সরাসরি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি সংসদীয় কার্যক্রমে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহুল্য প্রদর্শনে সীমাবদ্ধতা আনার সিদ্ধান্ত নাগরিক ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ সীমিতকরণ এবং সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে বিএফইউজে মহাসচিব উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদী এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জলবায়ু বাজেট, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং খাল খনন কর্মসূচি ভবিষ্যতের টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উন্নয়ন ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সুসংহত হবে। রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক আস্থার এই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।