মাদক ও দারিদ্র্যের বৃত্ত ভেঙে নতুন জীবনের পথে উজিরপুরের অনিক শিকদার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মাদক ও দারিদ্র্যের বৃত্ত ভেঙে নতুন জীবনের পথে উজিরপুরের অনিক শিকদার..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
মাদক ও দারিদ্র্যের বৃত্ত ভেঙে নতুন জীবনের পথে উজিরপুরের অনিক শিকদার..
মাদক ও দারিদ্র্যের বৃত্ত ভেঙে নতুন জীবনের পথে উজিরপুরের অনিক শিকদার..
ছবি: সংগৃহীত
পারিবারিক সংকট ও মাদকাসক্তির কারণে সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার অনিক শিকদারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে ডাব্লিউএবি ফাউন্ডেশন, যার মাধ্যমে তিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন এবং তার মেয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছ..

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা অনিক শিকদার পারিবারিক বিপর্যয়, চরম দারিদ্র্য এবং মাদকাসক্তির করাল গ্রাসে পড়ে গত কয়েক বছর ধরে এক অনিশ্চিত জীবন অতিবাহিত করছিলেন। এক সময়ের স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান অনিক বাবার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে মাদকচক্রের প্রভাবে অপরাধ জগতের দিকে ধাবিত হন। সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ায় তার একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা তাকে সামাজিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উজিরপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সামাজিক সংগঠন ডাব্লিউএবি ফাউন্ডেশন অনিকের পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। মূলত দারিদ্র্য ও পরিস্থিতির চাপে পড়ে অপরাধের পথে পা বাড়ানো অনিককে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ভুক্তভোগী অনিকের পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, কেবল আর্থিক সংকটই নয়, বরং সামাজিক অবজ্ঞা ও কলঙ্কিত পরিচিতি তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। অনিকের ছোট মেয়ে তুবার আকুতি ছিল এই পরিবর্তনের অন্যতম অনুঘটক, যে তার বাবার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না তুলে কেবল তার একটি সৎ কর্মসংস্থানের জন্য মিনতি জানিয়েছিল। তুবার এই আবেগঘন আবেদন ও বাবার প্রতি ভালোবাসা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনিক শিকদার নিজেও তার ভুল স্বীকার করে মাদকের অন্ধকার জগত ত্যাগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতির শিকার হয়েই তিনি অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং এখন তিনি নিজের এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। ভুক্তভোগীর এই অনুশোচনা এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের বিষয়টিই তাকে অপরাধের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার সাহস জুগিয়েছে।

এই মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডাব্লিউএবি ফাউন্ডেশন অনিক শিকদারকে একটি নতুন অটোভ্যান উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তিনি গ্রামে সম্মানের সাথে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। উজিরপুর থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ সহায়তা প্রদান করছেন এবং অনিকের ওপর নজরদারি রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি, অনিকের মেয়ে তুবার পড়াশোনার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছে ফাউন্ডেশনটি। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের মতে, অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের কেবল শাস্তির আওতায় না এনে তাদের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগ এখন স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হচ্ছে এবং অন্যান্যদের জন্যও এটি একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনিক শিকদারের এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করে যে, যথাযথ সুযোগ ও সামাজিক সমর্থন পেলে অপরাধের পথ থেকে যে কারো ফিরে আসা সম্ভব। তুবার পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ এবং অনিককে কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে একটি ভেঙে পড়া পরিবার নতুন করে আশার আলো দেখছে। এই ধরনের মানবিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে পরিবহন খাতে বা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও, ব্যক্তি পর্যায়ে এটি একটি ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি করবে। মাদক ও অপরাধের বিষবাষ্প থেকে একটি পরিবারকে রক্ষা করার এই প্রয়াস স্থানীয় সমাজে অপরাধ দমনে একটি কার্যকরী মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অনিকের অটোভ্যান চালিয়ে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার এই যাত্রা কেবল তার নিজের নয়, বরং তার পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator