গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বরে অবস্থিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে ভিন্ন মোড় দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সালমান মুক্তাদির এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করেননি এবং তার অভিযোগগুলো ঢালাও। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সালমান মুক্তাদির পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন যে, রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কীভাবে দেশের প্রতিটি থানার আইনি কার্যক্রম সম্পর্কে অজ্ঞ থাকতে পারেন। সালমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ঘটনার রাতেই তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়েরের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু পুলিশের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী সালমান মুক্তাদিরের ভাষ্যমতে, এই হামলা কেবল একটি সাধারণ ভাঙচুরের ঘটনা নয়, বরং এটি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতেই থানায় উপস্থিত থাকার পরও মামলা গ্রহণ না করা এবং পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মামলা না করার অভিযোগ উত্থাপন করা প্রমাণ করে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কতটা বিচ্ছিন্ন এবং দায়সারা। স্টুডিওর সিসিটিভি সার্ভারসহ সরঞ্জাম লুট করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, হামলার সুনির্দিষ্ট আলামত ও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের গড়িমসি জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সালমান মুক্তাদির দাবি করেছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার জন্য নয়, বরং একজন নাগরিক হিসেবে তার জানমালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।
ঘটনার বিপরীতে প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালমান মুক্তাদির বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি তার অধিনস্থ থানাগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্য না রাখেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পিআর ম্যানেজমেন্টের চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা বেশি জরুরি। সালমান আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব স্বার্থে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তিনি কোনো পলিটিক্যাল ইস্যু হতে চান না। তার মূল দাবি হলো, রাষ্ট্র যেন নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যা কেবল প্রেস ব্রিফিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
এই ঘটনাটি দেশের সৃজনশীল অঙ্গন ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একজন পরিচিত মুখ হওয়ার পরও যদি আইনি সহায়তা পেতে সালমান মুক্তাদিরের মতো ব্যক্তিকে দীর্ঘ ভোগান্তির শিকার হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা নাজুক, তা সহজেই অনুমেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধকে আরও উৎসাহিত করবে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।