চট্টগ্রামে গভীর রাতে সাংবাদিক দম্পতির অবস্থান জানতে গিয়ে পরিবারের সদস্যকে হুমকি ও মারমুখী আচরণের অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চট্টগ্রামে গভীর রাতে সাংবাদিক দম্পতির অবস্থান জানতে গিয়ে পরিবারের সদস্যকে হুমকি ও মারমুখী আচরণের অভিযোগ..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চট্টগ্রামে গভীর রাতে সাংবাদিক দম্পতির অবস্থান জানতে গিয়ে পরিবারের সদস্যকে হুমকি ও মারমুখী আচরণের অভিযোগ..
চট্টগ্রামে গভীর রাতে সাংবাদিক দম্পতির অবস্থান জানতে গিয়ে পরিবারের সদস্যকে হুমকি ও মারমুখী আচরণের অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের হালিশহরে গভীর রাতে সাংবাদিক দম্পতি আবু সাদাত মোহাম্মদ তোয়াহা ও তানজিলা নিঝুমের অবস্থান জানতে গিয়ে বড় ভাইকে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে।..

গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক বাসায় সাংবাদিক দম্পতি আবু সাদাত মোহাম্মদ তোয়াহা এবং তানজিলা নিঝুমের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য জানতে গিয়ে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে ৫ থেকে ৬ জনের একটি অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারী দল। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সংঘটিত এই আকস্মিক ঘটনার সময় ওই বাসায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক দম্পতির বড় ভাই আবু সাঈদ মোহাম্মদ তামান্না। দুষ্কৃতিকারীরা বাসায় প্রবেশ করেই সাংবাদিক দম্পতি কোথায় অবস্থান করছেন তা জানতে চেয়ে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং তামান্না তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানেন না বলে জানালে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোনো ধরনের নিয়মনীতি বা শিষ্টাচার তোয়াক্কা না করে গভীর রাতে সাধারণ একটি পরিবারকে টার্গেট করা এবং সাংবাদিক দম্পতির খোঁজে এসে এই ধরনের আকস্মিক হানা দেওয়ার ঘটনাটি পেশাগত দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে গভীর সংশয় ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার তীব্রতা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হুমকি নয়, বরং সংবাদকর্মীদের ব্যক্তিগত পরিসরে ভীতি প্রদর্শনের একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে দৃশ্যমান হচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু সাঈদ মোহাম্মদ তামান্না এই আকস্মিক ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন এবং দুষ্কৃতিকারীদের মারমুখী আচরণের বর্ণনা দিয়ে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্যমতে, আগত ব্যক্তিরা কেবল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সাংবাদিক দম্পতিকে পেলে তাদের ‘দেখে নেওয়া’ হবে মর্মে সরাসরি প্রকাশ্য হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর আগেও এই সাংবাদিক দম্পতিকে কেন্দ্র করে ঢাকায় একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা এবং মিরপুরের বাসায় হামলার মতো গুরুতর অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এই দম্পতি ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করছেন। পেশাগত কাজের সুবাদে বা অন্য কোনো কারণে এই সাংবাদিক দম্পতির ওপর বারবার এমন আক্রমণাত্মক নজরদারি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা সাধারণ কোনো অপরাধমূলক আচরণ নয়, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির অপপ্রয়াস। ভুক্তভোগী পরিবারটির ওপর নেমে আসা এই মানসিক নির্যাতন এবং গভীর রাতের এই তাণ্ডব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত দুষ্কৃতিকারীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয়, তাদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয় কিংবা গভীর রাতে এ ধরনের হুমকি দেওয়ার পেছনের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযুক্ত কোনো পক্ষের বক্তব্য বা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলেও ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অতীতে ঘটে যাওয়া হামলা এবং বর্তমান হালিশহরের এই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে এ ধরনের ঘটনা কেবল সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করবে না, বরং সমাজে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

এই ধরনের ঘটনা সংবাদকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হানছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করার অপচেষ্টা এবং সাংবাদিকদের ওপর এমন প্রকাশ্য হুমকি গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সম্পন্ন করে নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করা না গেলে সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সাথে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও কঠোর অবস্থান প্রদর্শন করতে হবে যাতে কোনো কুচক্রী মহল এ ধরনের বেপরোয়া আচরণ করার দুঃসাহস আর কখনো দেখাতে না পারে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator